তোমারা, যারা আত্মহত্যা করতে চাও !

লিখেছেন লিখেছেন দ্য স্লেভ ০৪ মার্চ, ২০২০, ০৯:৩৩:৩৬ রাত

তুমি মানুষের জন্যে যাই'ই করোনা কেন, মানুষ তোমাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করবে না এবং পারবেও না। মানুষ তোমাকে দ্রুত ভুলে যাবে। তোমার পিতা-মাতাও কদিন কান্নাকাটি করে নিজ কাজে মনোযোগী হবে। দ্রুত তারা ভিন্ন শান্তনা খুঁজে নিয়ে জীবন অতিবাহিত করবে। মানুষ তোমাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করবে না,এর কারন হল মানুষের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সে সবকিছু বুঝতে পারেনা,দেখতে পায়না,উপলব্ধীগত মহা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া মানুষ স্বার্থপর,অকৃতজ্ঞ,অহংকারী,হিংসুক,পরশ্রীকাতর, ফলে কখনও অন্যকে মূল্যায়ন করার প্রয়োজন থাকলেও সে করবে না। তুমি কি এই স্বার্থপর,অকৃতজ্ঞ মানুষের জন্যে নিজের জীবন বিসর্জন দিবে,যে তোমাকে সঠিকভাবে ভালোইবাসেনা ? তোমার জীবনটাই তো তাদের কাছে মূল্যবান না, তাহলে তাদের জন্যে জীবন দিবে কেন ? তোমার জীবনের মালিকও তো সে না। তোমার জীবনের উদ্দেশ্য জানাও তাদের কাজ না। ফলে তারা তোমাকে উপলব্ধীও করতে আসবে না। স্রেফ মূর্খরাই বিনা কারনে হারিয়ে যায়। মর্যাদাসম্পন্ন,চিন্তাসম্পন্ন মানুষেরা জীবনকে মূল্যায়ন করে।

তোমাকে যিনি সবচেয়ে বেশী ভালোবাসেন, তিনিই সবচেয়ে বেশী মূল্যায়ন করবেন,সবচেয়ে বেশী উপহার তিনিই দিতে পারেন। আর সেই তিনি হলেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। তিনি সকল মানুষের চেয়ে অনেক বেশী ভালোবাসেন তোমাকে, তিনি দুনিয়াতে তোমাকে কাজের মাধ্যমে ইবাদত করতে বলেছেন। সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে অন্যকে নানানভাবে সেবা করতে বলেছেন। দুনিয়াতে তোমার আচরনের মাপকাঠি বলে দিয়েছেন "আল্লাহর জন্যেই ভালোবাসা, আল্লাহর জন্যেই ঘৃণা"। তুমি সেটাকে "ব্যক্তিস্বার্থেই ভালোবাসা,ব্যক্তিস্বার্থেই ঘৃণা" হিসেবে গ্রহন করছো। তুমি তোমার ভালোবাসার স্থান পরিবর্তন করার কারনে শয়তান তোমার উপর সওয়ার হয়েছে এবং দুনিয়াতে সে তোমাকে বঞ্চিত করতে চায় এবং আখিরাতে অনন্ত কালের জন্যে বঞ্চিত করতে চায়। এটাই তার ওয়াদা ছিলো। তুমি এতই নির্বোধ যে নিজেকে বিজ্ঞ ভেবে শয়তানকে খুশী রাখতে চাও।

মানুষ অন্য মানুষকে যে ভালোবাসে, সেখানে ফাঁকি রয়েছে। সে তার নিজ স্বার্থে তাকে ভালোবাসে,সম্পর্ক তৈরী করে। কখনও যদি সে বিপদগ্রস্ত হয় তবে তার স্বার্থপরতাও বের হয়ে আসতে পারে। যদি এমন কঠিন বিপদ উপস্থিত হয় যে তার জীবন চলে যাবে, তাহলে সে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠবে। এই প্রবনতা দিয়েই তাকে সৃষ্টি করা। কিন্তু যদি সে নিজের জীবনকে কোনো কারন ছাড়া অথবা ক্রোধ,অভিমানের কারনে বিসর্জন দেয়, তবে সে আসলে নিজেকে বুঝতে পারেনি। অজ্ঞতার কারনেই সে সেটা করবে। যার মস্তিষ্ক কাজ করছে তার পক্ষে এটা সম্ভব নয়। তোমার মূল্য মানুষেরা দিতে পারবে না। এটা সঠিকভাবে দিতে পারে যিনি তোমাকে জীবন দান করেছেন তিনি। তিনিই এটার মূল্য জানেন। তুমি জীবন যদি দিতে চাও,তবে তা আল্লাহর রাস্তায় দান করো। মানুষেরা তোমাকে অধিক ভালোবাসবে, মনে রাখবে আর আখিরাতে পাবে জান্নাতুল ফিরদাউস। দুনিয়াতে বহু কাজ রয়েছে যা অন্যকে সেবা দেওয়া সংক্রান্ত,অন্যের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করতে শিখলে তুমি বরং নিজের হায়াত বৃদ্ধির দোয়া করবে,যাতে আরও বেশীদিন সেবা করে নেকী অর্জন করতে পারো। কিন্তু তুমি নিজের মৃত্যু কামনা করলে তুমি নির্বোধ,স্বার্থপর,অকৃতজ্ঞ। কারন তুমি কেবল নিজের দিকটই বিবেচনা করেছো। আর তোমার মতই আরেক অপদার্থের কাছে কৃতজ্ঞতা আশা করে তুমি আরও নির্বোধ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছো। শয়তান কখনও শয়তানকে পূজা করেনা,কারন সে জ্ঞানী এবং জ্ঞান পাপী, কিন্তু নির্বোধ লোক,অপর নির্বোধের পূজা করে। কারন সে কখনও শয়তানের চেয়েও নীচে নেমে যায়। আর যারা যুক্তিযুক্তভাবে শয়তানকে অনুসরন করে এবং তার পথে থাকাকেই যৌক্তিক অথবা আবেগীভাবে সফলতা মনে করে,শয়তানকে দৃঢ়ভাবে গ্রহন করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাত হারাবে। এদের জন্যে আফসোস। আমি আশা করি তুমি /তোমরা নির্বোধ হবেনা। একবার জীবন ভুল পথে বিসর্জন দিলে আর তা ফেরত পাবেনা। তোমার কান্না তুমি নিজেই দেখবে, তোমার কষ্ট নিজেই বহন করবে। দুনিয়াতে তোমার কান্না,কষ্ট,দু:খের যদি তুমি সুন্দর বিনিময়ই না পাও, তবে তা কার জন্যে, কিসের জন্যে করছো ? কষ্টের বিনিময়ে কষ্ট কেন ক্রয় করতে চাচ্ছ ?

আল্লাহর পথে ফিরে এসো। তোমার পরিবার,সমাজে তোমার অনেক প্রয়োজন রয়েছে। অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সেসবের দিকে মনোযোগী হও। তোমার ভুল ক্রুটি আল্লাহ ক্ষমা করবেন এবং দুনিয়াতে যদিও সুখ ও দু:খ কোনোটাই পরিপূর্ণ নয়, তবুও কিছু সুখ তুমি পাবে, আর মুমিন তো সবসময় মৃত্যুপরবর্তী জীবন নিয়ে ভাবে,সেভাবে কাজ করার চেষ্টা করে। তার সেই ভাবনা,নেক চিন্তা তাকে দুনিয়াতে আত্মিক সুখ প্রদান করে। আল্লাহ তার সু ধারনার সাথে থাকেন এবং তাকে এক সময় ভালোবেসে ফেলেন। সফলতার শীর্ষে পৌছে দেন তাকে। তুমি হও সেই লোকটি, যাকে আখিরাতে মহা সম্মানিত করা হবে,যার পিতা-মাতাকেও মহা সম্মান দেখানো হবে। সেই মহা বিচার দীবসের দিকে তাকিয়ে তোমার জীবন পথে অগ্রসর হও নতুন এক তুমি হিসেবে।

বিষয়: বিবিধ

৮৬৫ বার পঠিত, ০ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File