জান্নাতে নারীরা কি হুর পাবে ?

লিখেছেন লিখেছেন দ্য স্লেভ ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৩৯:২১ দুপুর

জান্নাতে নারীরা কি পুরুষের সমান সংখ্যক হুর বা সঙ্গী পাবেন ?

এই বিষয়টি নিয়ে প্রাচীন কাল থেকেই আলেমদের ভেতর বুঝগত মতপার্থক্য ছিলো। কেউ'ই পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারেননি, কারন এ বিষয়ে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য কম রয়েছে। সুমহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জান্নাত সম্পর্কে যতটুকু তথ্য দিয়েছেন সেটা যথেষ্ট কিন্তু কিছু বিষয় মানুষের বুঝের বাইরে। জান্নাত এমন কিছু যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো মন কল্পনাও করেনি। এর কারন সেটা ভিন্ন ডাইমেনশনের অবস্থা,ঘটনা। মানব মন যা কিছু ভাবতে পারে, তার উর্ধ্বের বিষয় এটি। যা কিছু অসম্ভব মনে হতে পারে, তা জান্নাতে সম্ভব। চোখ ধাঁধানো, অকল্পনীয় সুখের স্থান হল জান্নাত। যেখানে দু:খের কোনো উপস্থিতি রাখা হয়নি। বিরক্তি সৃষ্টিকারী উপাদান নেই সেখানে। অপূর্ণতা নেই। বহু হারামকে হালাল করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় সেখানে সেবা দানের জন্যে অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক ছেলে ও মেয়েরা রয়েছে। যেসব ছেলে ,মেয়েরা জ্ঞান বুদ্ধী তৈরী হবার পূর্বেই কোনো কারনে মারা গেছে, তাদেরকে রসূল(সাঃ) জান্নাতের মনি-মুক্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মানুষ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তারা প্রত্যেক জান্নাতিদের সাথে থাকবে। তারা জান্নাতিদেরকে আনন্দ প্রদান করবে,সেবা করবে। কিন্তু এই আনন্দ প্রদানের ধরন কেমন হবে সে সম্পর্কে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। হাদীস থেকে জানা যায় সেখানে বিভিন্ন রকমের যৌনানন্দের ব্যবস্থা রয়েছে। এ সংক্রান্ত বহু বিষয় হালাল করা হয়েছে। মানুষকে ১০০গুন বেশী শক্তি প্রদান করা হবে, এগুলো সহি হাদীসে এসেছে।

আল কুরআনে ও হাদীসে হুর সংক্রান্ত অনেক তথ্য এসেছে। বহু সংখ্যক আলিম হুর শব্দের অর্থ গ্রহন করেছেন সঙ্গী হিসেবে, যারা পুরুষ ও নারী উভয়েই হতে পারে। আবার বহু সংখ্যক আলীম হুরকে স্ত্রী বাচক শব্দ হিসেবে গ্রহন করেছেন। আল কুরআনে পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তারা অনেক সংখ্যক স্ত্রী পাবেন। আবার সকলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তারা হুর পাবেন। ফলে আলীমদের ভেতর এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে। আবার হুরদের সংখ্যা নিয়েও মতদ্বৈততা রয়েছে। কেউ বলেছেন শহীদগণ পাবেন ৭২টি হুর, আর সাধারনরা পাবেন ৪টি। কেউ বলেছেন সকলেই ৭২টি হুর পাবে। তবে যতগুলোই পাক, প্রতি শুক্রবারে তাদের সকলের চেহারা পূর্বের চাইতে সুন্দর হয়ে উঠবে। অর্থাৎ হুরগন এবং জান্নাতিগনের চেহারা দেখে কেউ এক ঘেয়েমিতে ভুগবে না।

সহি হাদীসে এসেছে নারীগণ তাদের স্বামীকে পাবেন সেখানে সঙ্গী হিসেবে। বুখারীর আরেক হাদীসে এসেছে , দুনিয়াতে কারো একাধীক স্ত্রী থাকলে বা একাধীক বিয়ে হয়ে থাকলে প্রথম স্ত্রী থাকবেন তার সাথে। এখন প্রশ্ন হল পুরুষ পাবে ৭২টা হুর, আর নারী পাবে তার স্বামীকে ? নাকি তারা এর পাশাপাশি অনেক সংখ্যক পুরুষ সঙ্গীও পাবেন ? এ প্রশ্নগুলোর সুরাহা সঠিকভাবে এখনও হয়নি। এর কারন হল আল্লাহ আমাদেরকে বিস্তারিত জানাননি। তবে বলেছেন, সেখানে মানুষ যা চাইবে তা পাবে, যা মানুষ চাইতে পারে তার চাইতেও অনেক বেশী পাবে। আল্লাহ অবাক করে দিবেন মানুষকে। মানুষেরা প্রবল প্রাপ্তীর আনন্দে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাবে। তার কল্পনার চাইতেও বেশী কিছু পাবে এবং সে মহা সুখী হয়ে চীরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে।

কোনো কোনো আলেম বলেছেন আল্লাহ পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে হুরদের কথা এ কারনে বলেছেন যে, পুরুষ মাত্রেই বহুগামী। আল্লাহ এভাবে তাদেরকে তৈরী করেছেন। ফলে তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে বক্তব্যগুলো পুরুষবাচক হিসেবে এসেছে। কিন্তু মূলত হুর পাবে পুরুষ ও নারী উভয়েই। এসব বন্টন করবেন আল্লাহ। কিভাবে তাকে খুশী করতে হয় সেটা আল্লাহর চাইতে বেশী ভালো কেউ জানেনা।

যদি নারীরা কেবল তাদের স্বামীদেরকে পায়, তাহলে যে নারীর বিয়ে হয়নি সে কি পাবে ? দেশী এক আলেম বলেছেন, আল্লাহ তার জন্যে স্বামী তৈরী করে দিবেন। আর যারা বেশী স্বামী চায়, তারা জান্নাতে যাবেনা বলে উনি মন্তব্য করেছেন। দেশী আলেমদের সমস্যা হল, এরা কখনই বলতে পারেনা যে, " আমি অবগত নই, আল্লাহই ভালো জানেন"। এরা নির্বোধের মত হলেও কিছু না কিছু বলবে। যে নারী বেশী স্বামী জান্নাতে আশা করেন, সেই নারী জান্নাতে যাবেনা মর্মে উনার কাছে কে ওহী নাযিল করলো ? আন্দাজে কথা বলার চাইতে " আল্লাহ ভালো জানেন" এটা বলাই সাহাবীদের সুন্নাহ।

যেসব পুরুষ একাধীক বিয়ে করেছে, সহি হাদীস অনুযায়ী যদি প্রথম স্ত্রী তার সাথে থাকে, তবে বাকী স্ত্রীরা কার কাছে,কোথায় থাকবে যদি জান্নাতি হয়ে থাকে ? নাকি প্রথম স্ত্রী ছাড়া অন্য স্ত্রীগন জাহান্নামী হবে ? ধরুন এক নারীর প্রথম স্বামী মারা যাবার পর অথবা তালাকের পর একজন যুবককে বিয়ে করলো যার পূর্বে বিয়ে হয়নি। তাহলে এই নারী হল দুই পুরুষেরই প্রথম স্ত্রী। জান্নাতে তাহলে এই নারী স্টাটাস কি হবে ? সে তো দুজনেরই প্রথম স্ত্রী, তবে সে কার কাছে থাকবে ? আবার যার ২টা স্ত্রী, তারা সকলে জান্নাতি হলে প্রথম স্ত্রী তার স্বামীর কাছে থাকলো। আর হুজুরের কথা অনুযায়ী দ্বিতীয় স্ত্রী তো জান্নাতে স্বামী ছাড়া অন্য হুরকে পাচ্ছেই না। তবে এই দ্বিতীয় স্ত্রীর অবস্থা কি হবে ? সে কি একা একা চীর জীবন থাকবে ? এসব হুজুর আসলে অযথা কথা বলে, অজ্ঞতাবশত আল্লাহর ন্যায় বিচারের উপর কথা বলার চেষ্টা করছে। আল্লাহই সর্বোত্তম বিচারক।

আসলে এ বিষয়ে আমাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। আল্লাহই ভালো জানেন। তবে সেখানে তাদেরকে খুশী করা হবে। বিষয়টা কোনোভাবেই এমন নয় যে, আল্লাহ পুরুষকে তার পাওনার চাইতে বেশী দিবেন, আর নারীকে বঞ্চিত করবেন । আল্লাহ নারীদেরকে অবশ্যই সেখানে সর্বোচ্চ খুশী করবেন। কারন দুনিয়াতে নারী পুরুষের দায়িত্বের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকলেও তাদের নেকী বা সওয়াব বা নিয়ামতের ক্ষেত্রে বা পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে আল্লাহ পার্থক্য করেননি। ফলে নারীরা যেন কোনোভাবেই না ভাবে যে, আল্লাহ তাদেরকে নিরামিষ কোনো এক জান্নাতে দিবেন এবং অপছন্দনীয় সঙ্গী প্রদান করবেন। অবশ্যই বিষয়টি এরকম নয়।

কোনো মহা পরহেজগার নারী যদি বলে থাকেন যে, আমি জান্নাতে কেবল আমার খুকার বাপকেই চাই, তবে সেই নারী সম্ভবত মিথ্যাবাদী। সে খুকার বাপকে তেল মারতে কথাটা বলেছেন। অথবা ওই নারীর জীবন,সুখ,ইচ্ছা,আকাঙ্খা সম্পর্কে কোনো ধারনাই নেই। অথবা সেই নারী আসলেই এমন পরহেজগার যার চিন্তা ভাবনা কেবল তার স্বামীকে নিয়েই। অথবা তিনি সারা জীবন একটি দরজা জানালাবিহীন ঘরেই বড় হয়েছেন খুকার বাপের সাথে, যার কাছে দুনিয়ার কোনো তথ্য আসেনি। অন্য পুরুষের চিন্তা তার মাথায় কখনই আসেনি। সত্য হল এই যে, বাস্তবে এটা প্রায় অসম্ভব। কারন আল্লাহ নফস তৈরী করেছেন সকল মানুষের ভেতর এবং সেটা বহু রকমের কু চিন্তা করে। আর জান্নাতে আল্লাহ মানুষকে খুশী করতে সব রকমের ব্যবস্থাই রেখেছেন। আল্লাহ ঠিক কিভাবে কি করবেন সেটা আমাদের অজানা। আর কোনো নারী যদি জান্নাতে বহু সংখ্যক পুরুষ সঙ্গী আশা করেন ,তবে তার এই আশা অবশ্যই দোষনীয় নয়। কিন্তু এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি, বরং কিছু আয়াত ও হাদীসে কিছু ইঙ্গিত এসেছে। আমরা এ প্রশ্নের জবাবে বলতে পারি, নিশ্চিত থাকেন, আল্লাহই একমাত্র ন্যায় বিচারক। তিনি অবশ্যই কেবল পুরুষকে সৃষ্টি করেননি, তিনি নারীকেও সৃষ্টি করেছেন। পরিক্ষা উভয়ের জন্যেই এবং পুরষ্কার উভয়ের জন্যেই। সুখ,খুশী,আনন্দ উপভোগ উভয়ের জন্যেই। জান্নাত হল পরিপূর্ণতার স্থান, সেটা চীরস্থায়ী বাসস্থান। সেখানে প্রবেশের সময় পুরুষ হবে যুবক, নারী হবে তরুনী। রূপ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। শরীর হবে নিখূঁত , আকর্ষনীয়,শক্তিশালী। খাবার গ্রহনের পর টয়লেটে যাওয়া লাগবে না, ঢেকুরের সাথে সাথে পেটের উচ্ছিষ্ট উড়ে যাবে। আল্লাহ বলেন, তারা সেখানে চীরস্থয়ী হবে।

কাজেই জান্নাতে কিভাবে কি পাব সেটা না ভেবে কিভাবে জান্নাতে যাওয়া যায় এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সেই চিন্তা করা উচিৎ এবং কুরআন সুন্নাহ অনযায়ী জান্নাতি আমল করা উচিৎ। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন ! জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন ! জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি দিন !

বিষয়: বিবিধ

১৪২২ বার পঠিত, ৫ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

386817
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সন্ধ্যা ০৬:৩১
এলিট লিখেছেন : জান্নাতে পুরুষের জন্য হুর, নারীর জন্য কি?http://smelite.blogspot.com/2014/09/blog-post_16.html
386818
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সন্ধ্যা ০৬:৩৬
এলিট লিখেছেন : [url href="http://smelite.blogspot.com/2014/09/blog-post_16.html" target="_blank"পড়ুনঃ জান্নাতে পুরুষের জন্য হুর, নারীর জন্য কি?"[/url]
386820
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ১০:২৫
আমি আল বদর বলছি লিখেছেন : ভাল লাগলো ভাই ভালোবাসা ও দোয়া রেখে গেলাম
386822
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ১১:৫৬
কুয়েত থেকে লিখেছেন : জাননাতে পুরুষের জন্য যা থাকবে নারিদের জন্যও তাই থাকবে। এটা পারস্পরিক চাহিদার বিষয়। মহান আল্লাহ বলেছেন তোমরা যা কিছু ছাইবে তাই আমাদেরকে দেওয়া হবে। ভালো লাগলো লেখাটি আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
386827
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সকাল ১০:১১
টাংসু ফকীর লিখেছেন : অনেক ধন্যবাদ

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File