তারাবীর নামাজ ২০ রাকায়াত: শরীয়তের মানদন্ডে বিভ্রান্তির মিমাংসা আট রাকায়াত পড়লেও কোন সমশা নেই

লিখেছেন লিখেছেন কুয়েত থেকে ০৭ মে, ২০১৯, ০৪:১০:২৭ রাত

তারাবীহ নামাজ ২০ রাকায়াত:শরীয়তের মানদন্ডে বিভ্রান্তির মিমাংসা।

তারাবীহ এর শাব্দিক অর্থ:

আত তারাবীহ শব্দটি তারবিয়াহ শব্দের বহুবচন। মূলত শব্দটি মাসদার। যার অর্থ বিশ্রাম নেয়া, বিরতি দেয়া, ধীরে ধীরে করা, আরাম করে করা, বিশ্রাম করে কাজ সম্পাদন করা ইত্যাদি। প্রতি চার রাকাত নামাযের পর সম পরিমাণ সময় আরাম বা বিশ্রাম নেয়া হয় বলে একে সালাতুত তারাবীহ বলা হয়। এ সময় টুকু বিশ্রাম নেয়া বা বিরতি দিয়ে পড়া সুন্নাত।

অভিধানে আরো কতিপয় অর্থ পাওয়া যায়। যথা- ধীরে ধীরে, আরাম, অবসর, বিশ্রাম, বিরতি ইত্যাদি। (আল বাহরুর বায়েক শরহু কানযুদ দাকায়েক; খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৭১)

التَّرَاوِيحُ : جمع ترويحة ، وأَصلها المصدر وهي في الأصل اسم للجلسة مطلقا سميت بها الجلسة التي بعد أربع ركعات في ليالي رمضان، لاستراحة الناس بها ، ثم سميت كل أربع ركعات ترويحة مجازا ،

পারিভাষিক অর্থ:

রমজানুল মোবারক রাতে এশার নামাজের পর যে নামাজ পড়া হয় তাকে তারাবীহ এর নামাজ বলা হয়। ইহা কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদের নামায হিসাবে ও ব্যবহার হয়। (ইবন হাজার আসকালানী ২/১২৫)

هي الصلاة التي تصلى جماعة في ليالي رمضان، والتراويح جمع ترويحة، سميت بذلك لأنهم كانوا أول ما اجتمعوا عليها يستريحون بين كل تسليمتين، كما قال الحافظ ابن حجر، وتعرف كذلك بقيام رمضان

* হজরত ওমর, উসমান ও আলী রাঃ সবাই খোলাফায়ে রাশেদীন ছিলেন। তাঁদের শাসনামলের এমন কোন নজীর নেই, যে ব্যক্তি আট রাকাত পড়ে জামাত থেকে বেরিয়ে গেছেন। কিংবা কেউ ২০ রাকাত তারাবীহকে বিদআত বলেছেন।

* প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তোমাদের জন্য আমার সুন্নাত ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত মেনে চলা অত্যাবশ্যকীয়। সর্বশক্তি নিয়োগ করে এ সুন্নাত পালন করবে। (সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪২, খ- ১, পৃষ্ঠা ৪৯; জামেয়ূল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল, খ- ১, পৃষ্ঠা ১১৭; তাহাবী শরীফ, খ- ৩, পৃষ্ঠা ১৮৩)

* ইমাম বায়হাকী, আল্লামা রাজী, কুসতলানী, ইবন কুদামা, ইবন হাজার মক্কী, আবু জাফর ত্বহাবী, ইবন হুমাম, বাহরুর রায়েক প্রণেতা রহমাতুল্লাহি আলাইহিম প্রমুখগণ এ ব্যাপারে একমত হয়ে বলেন, হজরত ওমর ফরুক (রা.) এর শাসনামলে ২০ রাকাত তারাবীহের উপরই সকলের সিদ্ধান্ত স্থির হয় এবং এভাবেই চলতে থাকে মুসলিম উম্মাহর নিরবিচ্ছিন্ন আমল।

* বি: দ্র: প্রতি ৪ রাকায়াতে ১ তারাবীহাহ সে হিসাবে পাঁচ তারাবীহাতে মোট ২০ রাকায়াত।

খোলাফায়ে রাশেদীন যে আদেশ দিয়েছেন, আমল করেছেন, যার উপর ইজমা হয়েছে, তার বিরোধিতা করা ধৃষ্টতা ছাড়া কিছুই নয়?

* তারাবীহর পরিভাষায় ২০ রাকাতের জন্য: খোলাফায়ে রাশেদীন বা অন্য কোন সাহাবী আট রাকাআতের সাথে তারাবীহ শব্দ উচ্চারণ করেন নি।

সাহাবায়ে কেরামের ইজমা ও তাঁদের আমল ২০ রাকায়াত

** তাবেয়ীগণের (রহ.) আমল ছিল ২০ রাকাত তারাবীহ

হজরত সুয়াইদ ইবন গাফালা যিনি বয়সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মাত্র তিন বছরের ছোট ছিলেন। তিনি ইমামতি করতেন। হজরত আবুল হাজীব বলেন, হজরত সুইয়াইদ ইবন গাফালা রমজান মাসে আমাদের জামাতের সাথে পাঁচ তারবিহায় ২০ রাকাত নামাজ পড়াতেন। (আস সুনানে কাবীর লিল বায়হাকী, পৃষ্ঠা ৪৯৬)

* হজরত আবুল বুখতারী (রহ.) বলেন, তিনি রমজানে পাঁচ তারবিহায় ২০ রাকাত ও তিন রাকাত বেতের পড়তেন।

হজরত সাঈদ ইবন আবু উবায়েদ থেকে বর্ণিত, হজরত আলী ইবন রাবীয়া পাঁচ তারবিহা তথা ২০ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বেতের জামাতের সাথে পড়তেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, খ- ২, পৃষ্ঠা ৩৯৩)

** এ সকল সহীহ হাদীস, সাহাবায়েকেরাম ও তাবেয়ীদের ইজমা দ্বারা বুঝা যায় যে, ২০ রাকাআতের সাথে তারাবীহ শব্দ এবং ২০ রাকাত তারাবীহের আমল তাবেয়ীগণের মাঝে বিনা প্রতিবাদে নির্বিঘেœ প্রচলিত ছিল। আর পুরো খাইরুল কুরুনে কোন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যাবে না, যে ব্যক্তি ২০ রাকাত তারাবীহকে অস্বীকার করেছেন বা অপছন্দ করেছেন। কিংবা ২০ রাকাত তারাবীহকে বিদআত বলেছেন।

মক্কা মুকাররমাহ ও মসজিদে নববীতে ২০ রাকাতের পক্ষে

নিরবিচ্ছন্ন আমল

পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারায় হযরত ওমর রাঃ, হযরত উসমান রাঃ, হযরত আলী রাঃ এর শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবিহই পড়া হতো। আজও উক্ত বিশ রাকাত তারাবীহই পড়া হয়। হযরত আয়েশা রাঃ-ও মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করতেন। তিনিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ ফরমান বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার দ্বীনের মাঝে বিদআত সৃষ্টি করবে, তার কাজটি পরিত্যাজ্য, প্রত্যখ্যাত” (বুখারী-মুসলিম)। যদি বিশ রাকাত তারাবীহের নামাজ বিদআত ও নাজায়েজ হতো, তাহলে হযরত আয়েশা রাঃ বছরের পর বছর এর ওপর চুপ করে বসে থাকতেন না। হযরত জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাঃ-ও মদিনায় অবস্থান করছিলেন।

হযরত আতা ইবন আবী রাবাহ (রহ.): মক্কা মুকাররমায় হযরত আতা ইবন আবী রাবাহ (রহ.) (মৃ. ১১৪ হি.) বলেন, আমি লোকদের (সাহাবা ও তাবেয়ীগণ) বেতের নামাজসহ ২৩ রাকাত পড়তে দেখেছি। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, খ- ২, পৃষ্ঠা ৩৯৩)

ইমাম ইবন আবী মুলাইকা (মৃ. ১১৭ হি.) লোকদের মক্কায় বিশ রাকাত তারাবিহ পড়াতেন।

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) (মৃ. ২০৪ হি.) বলেন, আমি স্বীয় শহর মক্কায় লোকদের বিশ রাকাত তারাবিহ পড়া অবস্থায়ই পেয়েছি। (আল জামেউস সহীহ সুনানে তিরমিযি, খ- ১, পৃষ্ঠা ১৬৬)

সমস্ত ইসলামী দুনিয়ায় ২০ রাকাত তারাবীহ প্রচলিত আছে

* ইমাম ইবরাহীম নাখয়ী (রহ.) (মৃ. ৯৬ হি.) বলেন, লোকেরা (সাহাবীগণ ও তাবেয়ীগণ) রমজান মাসে পাঁচ তারাবীহ (বিশ রাকাত) পড়তেন। (কিতাবুল আসার লিআবী ইউসুফ, পৃষ্ঠা ৪১)

* হযরত ইউনুস (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমি আবুল আশআস (মৃ. ৮৩ হিজরী)-এর ফেতনার পূর্বে জামে মসজিদ বসরাতে দেখেছি যে, হযরত আব্দুর রহমান ইবন আবী বাকরা (মৃ. ৯১ হিজরী) হযরত সাঈদ বিন আবীল হাসান (মৃ. ১০০ হিজরী) এবং হযরত ইমরানুল আব্দী লোকদের পাঁচ তারাবীহ [বিশ রাকাত] পড়াতেন। (কিয়ামূল লাইল, খ- ১৫৮)

মোটকথা, কোনো ইসলামী দুনিয়ায় এটাকে অস্বীকার করা হয়নি।

চার ইমাম রাহিমাহুমুল্লাহ-এর বক্তব্য ২০ রাকায়াত

শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী (রহ.) বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত চার মাযহাবে সীমাবদ্ধ। এ চার ইমামের মাঝে প্রথম ইমাম হলেন ইমাম আবু হানীফা (রহ.) (মৃ. ১৫০ হিজরী)ও বিশ রাকাআত তারাবীহের প্রবক্তা। (ফাতাওয়া কাজীখান, খ- ১, পৃষ্ঠা ১১২)

* ইমাম মালিক (রহ.) এর একটি বক্তব্য বিশ রাকাতের পক্ষে, দ্বিতীয় বক্তব্য ৩৬ রাকাতের পক্ষে। (যাতে বিশ তারাবিহ আর ১৬ রাকাত নফল)। (হেদায়াতুল মুজতাহিদ, খ- ১, পৃষ্ঠা ১৬৭)

*ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বিশ রাকাতের প্রবক্তা। ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (রহ.) এর মুখতার বা গ্রহণ যোগ্য বক্তব্যও বিশ রাকাতের পক্ষে। (আলমুগনী, খ- ২, পৃষ্ঠা ১৬৭)

সাহাবায়ে কেরামের ইজমা ও তাঁদের আমল ২০ রাকায়াত

أجمعت الصحابة على أن التراوايح عشرين ركعة-

সাহাবীদের যুগে বিশ রাকাত তারাবীহ ব্যাপারে ইজমা সংগঠিত হয়েছে। সাহাবায়ে কিরাম নিরবচ্ছিন্ন আমল ও ইজমার আলোকে তারাবীহ নামাজ বিশ রাকাত। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) থেকে এ আমলই সারা পৃথিবীতে চালু হয়েছে, যা আজো সারা পৃথিবীতে আমল হয়ে আসছে। নব্য ফিতনা কতিপয় ..! নামধারী ছাড়া মসজিদে নববী এবং বাইতুল্লাহসহ সারা পৃথিবীতে তা সকল মুসলমাগণ আমল করে আসছেন। এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে আমলী ইজমা হয়েছিল।

* اجماع ইবন কুদামা হাম্বলী (রহ.) (মৃ. ৫৯৫ হিজরী) আলমুগনী গ্রন্থের ২য় খ-ের ১৬৭ নং পৃষ্ঠায়, আল্লামা কাসতালানী শাফেয়ী (রহ.) (মৃ. ৯২৩ হিজরী) ‘ইরশাদুস সারী’ এর ৩য় খ-ের ৫১৫ নং পৃষ্ঠা বিশ রাকাতের ওপর সাহাবাগণের ইজমার কথা উল্লেখ করেছেন।

মোল্লা আলী কারী হানাফী (রহ.) (মৃ. ১০১৪ হিজরী) ‘শরহুন নিকাইয়া’-এর ২য় খ-ের ২৪১ পৃষ্ঠায় এবং আল্লামা সাইয়্যেদ মুরতাজা জুবাইদী (মৃ. ১২০৫ হিজরী) সাহেব ‘ইতহাফুস সাদাতুল মুত্তাকীন’ কিতাবের ৩য় খ-ের ৭০০ নং পৃষ্ঠায় সাহাবাগণের এ ইজমাকে নকল করেছেন। পরবর্তিতে উম্মতে মুসলিমার ইজমায়ে আমালী ২০ রাকায়াত।

* ১২৮৪ হিজরীর ইংরেজ আমলের আগে পৃথিবীর কোনো মসজিদে রমজানের পুরো মাস মসজিদে ৮ রাকাত তারাবীহ জামাতের সাথে পড়ার কোনো নজির নেই। না মসজিদে নববীতে কোনো দিন আট রাকাত তারাবীহ পড়া হয়েছে, না বাইতুল্লায়, না পৃথিবীর কোনো মুসলিম পল্লীতে। রানী ভিক্টোরিয়ার আমলে সর্ব প্রথম এ বিদআতের সূচনা হয়।

* এর আগে সমগ্র উম্মতে মুসলিমা ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০ রাকাত তারাবিহ পড়ে আসছেন।

* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম (রা.), তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীগণ এবং মুজতাহিদ ইমামগণের আমল দ্বারা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, তারাবীহ নামাজ বিশ রাকাত।

ভারতীয় উপমহাদেশে ২০ রাকাত তারাবীহ অস্বীকার করার প্রেক্ষাপট

ইংরেজ শাসনের আগে তৎকালীন কোন আলেম পাওয়া যাবেনা, যারা খোলাফায়ে রাশেদার শাসনামলের ২০ রাকাত তারাবীহ পড়াকে অস্বীকার করেছেন। যে কেউ আট রাকাত তারাবীহ পড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতেন-এমন কোন নজীর নেই।

* কিন্তু ১২৮৪ হিজরীতে ভারতের আকবরাবাদ থেকে সর্ব প্রথম এক মৌলভী সাহেব আট রাকাত তারাবীহর ফতোয়া প্রদান করেন। এরপর ১২৮৫ হিজরীতে পাঞ্জাব সীমান্তে মাওলানা মুহাম্মদ হুসাইন বাটালবী আট রাকাত তারাবি নামাজ পড়া সুন্নত হওয়ার দাবি করেন।

* ১৩৭৭ হিজরীতে আরবের শায়েখ নসীব রেফায়ী ও শায়েখ নাসীর উদ্দীন আলবানী সর্ব প্রথম আট রাকাত তারাবীহর মত প্রকাশ করেন। তখন শায়েখ আতিয়্যা সালিমসহ আরবের জমহুর উলামায়ে কেরাম তাদের উক্ত রায়কে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সাহাবায়ে কিরাম (রা.) যুগ থেকে চলে আসা হারামাইন শরীফাইন তথা বাইতুল্লাহ শরীফ ও মসজিদে নববীতে বিশ রাকাত তারাবীহর আমলকে অব্যাহত রাখেন, যা আজো অব্যাহত রয়েছে।

* সুতরাং আট রাকাত তারাবীহ পড়ার মতকে অনুসরণের অর্থ হলো, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণের অনুসৃত আমলকে প্রত্যাখ্যান করে নব্য সৃষ্ট বিদআতি দলের অনুসরণ করা। সুন্নাতে নববী, সুন্নাতে খোলাফায়ে রাশেদীন, সুন্নাতে ছাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।

* ইংরেজ আমলের পূর্বে কোন একজন মুহাক্কিক আলিম মুহাদ্দিস বা ফক্বীহ এটাকে অস্বীকার করেননি। হজরত ওমর রাঃ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, যদি আমার পর কোনো নবী হতো তবে ওমর হতো। তিনি আরো বলেছেন, দ্বীনের ব্যাপারে সবচেয়ে মজবুত হলেন ওমর রাঃ। যদি ২০ রাকাত তারাবীহ নামাজ বিদআত হয়, তাহলে হজরত ওমর রাঃ সহ সে সময়কার সমস্ত আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণের বিদআতি হওয়ার আবশ্যক হয়। আহলে হাদীস গুরু ইবন তাইমিয়া বলেন, উবাই ইবন কাব রাঃ মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের মাঝে তারাবীহ এর নামাজ পড়াতেন। কোন একজনও এ ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করেনি’। (মাজমুআয়ে ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়া, খ- ৩৩, পৃষ্ঠা ১১২)

* এ তারাবীহ ও তাহাজ্জুদকে এক মনে করা উচিত নয়।

১. তারাবীহ রমজান মাসে, তাহাজজুদ সারা বছর।

২. তারাবীহের সময় ঘুমানোর আগে, তাহাজ্জুদের সময় নির্ধারিত নয় তবে উত্তম ঘুমের পর।

৩. মুহাদ্দিসীনে কিরাম তাহাজ্জুদ ও তারাবীহের অধ্যায় ভিন্ন ভিন্ন লিখেছেন। ‎

৪. তাহাজ্জুদ নামাযের হুকুম কুরআন দ্বারা প্রমাণিত যথা সূরা ইসারার ৭৯ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তায়ালা

‎‏ وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ ‏نَافِلَةً لَّكَ عَسَى أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا

অর্থাৎ আর রাতে তাহাজ্জুদ পড় এটি তোমার জন্য নফল, অচিরেই তোমাকে ‎তোমার রব প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন।

৫. তাহাজ্জুদ আল্লাহর আয়াত প্রমাণিত আর তারাবীহ নবীজীর বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত।

৬. ইমাম আহমাদ রহঃ ও তারাবীহ তাহাজ্জুদ আলাদা বিশ্বাস করতেন (মাকনা’-১৮৪)‎

৭. ইমাম বুখারী রহঃ এর ক্ষেত্রে বর্ণিত তিনি রাতের প্রথমাংশে তার সাগরীদদের নিয়ে তারাবীহ পড়তেন আর শেষ রাতে ‎একাকি তাহাজ্জুদ পড়তেন। (ইমাম বুখারী রহঃ এর জীবনী)‎

৮. তাহাজ্জুদ এর নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত অর্থাৎ বিতরসহ বেশি থেকে বেশি ১৩ রাকাত আর কমপক্ষে ‎৭ রাকাত। আর তারাবীহ এর রাকাত সংখ্যার ক্ষেত্রে খোদ আহলে হাদিস ইমামদের স্বাক্ষ্য যে এর কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত নয়।

৯. তাহাজ্জুদের হুকুম মক্কায় হয়েছে আর তারাবীহের হুকুম মদীনায় হয়েছে।

আর তারাবীহের ব্যাপারে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা রামযানের রোযা তোমাদের উপর ফরয করেছেন আর ‎আমি তোমাদের উপর এতে কিয়াম করাকে সুন্নত করেছি (সুনানে নাসায়ী-১/৩০৮)‎

তারাবীহ নামাজ পড়ার নিয়ম

বুখারী হাদীস নং ১৮৮৩। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় তারাবীহর সালাত দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।

হাদীসের রাবী ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন এবং তারাবীহর ব্যাপারটি এ ভাবেই চালু ছিল। এমনকি আবূ বকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে ও ‘উমর (রাঃ) -এর খিলাফতের প্রথম ভাগে তারাবীহ এরূপই ছিল। ইবনু শিহাব (রহঃ) ‘উরওয়া ইবনু যুবায়র (রহঃ) সূত্রে ‘আব্দুর রাহমান ইবনু ‘আবদ আল -ক্বারী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন , তিনি বলেন, আমি রমযানের এক রাতে ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) -এর সঙ্গে মসজিদে নববীতে গিয়ে দেখতে পাই যে, লোকেরা বিক্ষিপ্ত জামায়াতে বিভক্ত। কেউ একাকী সালাত আদায় করছেন আবার কোন ব্যক্তি সালাত আদায় করছেন এবং তার ইকতেদা করে একদল লোক সালাত আদায় করছেন। ‘উমর (রাঃ) বললেন, আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি আমি একজন ক্বারীর (ইমামের ) পিছনে একত্রিত করে দিই, তবে তা উত্তম হবে। এরপর তিনি উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) -এর পিছনে সকলকে একত্রিত করে দিলেন। পরে আর এক রাতে আমি তাঁর [‘উমর (রাঃ) ] সঙ্গে বের হই। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে সালাত আদায় করছিল। ‘উমর (রাঃ) বললেন, কত না সুন্দর এই নতুন ব্যবস্থা! তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাক তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা সালাত আদায় কর, এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন, কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা সালাত আদায় করত। আর তখন থেকেই উমর (রাঃ) এর নির্দেশে তারাবীহ নামাজ দুই রাকাত করে ২০ রাকাত পড়া প্রচলিত হয়। তাই, সময় থাকতে ২০ রাকাত তারাবীহকে বিদআত বলার মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকাই আমাদের ঈমানের দাবী।

তারাবীহ নামাজ ২০ রাকাত এর দলীল

عن جابر بن عبد الله قال خرج النبى صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فى رمضان فصلى الناس اربعة وعشرون ركعة واوتر بثلاثة

১. হযরত জাবের রাঃ বলেনঃ রমজান মাসের এক রাতে রাসূল সাঃ বাহিরে থেকে আসলেন। আর সাহাবায়ে কেরামকে ২৪ রাকাত [৪ রাকাত ঈশার, আর ২০ রাকাত তারাবীহের] নামায পড়ালেন। আর তিন রাকাত বিতির পড়ালেন। [তারীখে জুরজান-২৭}

২. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) রমজান মাসে ২০ রাকাত নফল আদায় করতেন এবং বেতের পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯৪; আল মুজামুল কাবীর লিত তবরানী, হাদীস নং ১২১০২, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৩৯৩; মাজমাউজ যাওয়াইদ, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪০২; সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং ৪৩৯১)

৩. عن يحيى بن سعيد ان عمر بن الخطاب امر رجلا يصلى بهم عشرين ركعة

হযরত ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় ওমর বিন খাত্তাব রাঃ এক ব্যক্তিকে বিশ রাকাত পড়ার হুকুম দিলেন। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৩} (তারীখে জুরজান, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১৬)

৪. وروى مالك من طريق يزيد بن خصيفة عن السائب بن يزيد عشرين ركعة

হযরত সায়েব বলেন: হযরত ওমর রাঃ এর সময়কালে বিশ রাকাত তারাবীহ ছিল। {ফাতহুল বারী-৪/৪৩৬} যার সনদ বুখারীতে দুই স্থানে আছে।

৫. عن السائب بن يزيد ، قال : كنا نقوم في زمان عُمَر بن الخطاب رضي الله عنه بعشرين ركعة والوتر

হযরত সায়েব বিন ইয়াজিদ রাঃ বলেন: আমরা হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবীহ ও বিতির পড়তাম। {সুনানে সুগরা লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৮৩৩, মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৪৪৩,

ইমাম নববী (রহ.) (শরহুল মিনহাজ), মোল্লা আলী কারী (রহ.) (শরহুল মুয়াত্তা) ও সুয়ুতী (রহ.) এ বর্ণনাকে সহীহ বলেছেন।

৬. محمد بن كعب القرظى كان الناس يصلون فى زمان عمر بن الخطاب فى رمضان عشرين ركعة ويوترون بثلاث

মুহাম্মদ বিন কাব কুরজী বলেন: ওমর ফারুক রাঃ এর শাসনামলে লোকেরা (সাহাবীগণ) রমজান মাসে বিশ রাকাত তারাবীহ ও তিন রাকাত বিতির পড়তো। [মুসাান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৩]

৭. عن يزيد بن رومان ، أنه قال: كان الناس يقومون في زمان عمر بن الخطاب في رمضان بثلاث وعشرين ركعة

হযরত ইয়াজিদ বিন রূমান বলেন: লোকেরা (সাহাবীগণ) হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বিতির রমজান মাসে আদায় করতেন। {মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৪৪৩, মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৩৮০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৩৯৪} (মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদিস নং ১৪৪৩, খ- ৪, পৃষ্ঠা ২০৭; আল মুয়াত্তা লিল মালেক, হাদিস নং ৩৮০, খ- ২, পৃষ্ঠা ১৫৯; আস সুনানে কাবীর লিল বায়হাকী, হাদিস নং ৪৮০২, খ- ২, পৃষ্ঠা ৪৯৬)

৮. عن الحسن ان عمر بن الخطاب جمع الناس على ابى بن كعب فكان يصلى بهم عشرين ركعة

হযরত হাসান রাঃ থেকে বর্ণিত। হযরত ওমর রাঃ লোকদেরকে হযরত উবায় বিন কাব রাঃ এর কাছে একত্র করে দিলেন। আর তিনি লোকদের বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতেন। {সুনানে আবু দাউদ-১/২০২, সিয়ারু আলামিন নুবালা-১/৪০০} (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খ- ১, পৃষ্ঠা৩৫০; সুনানে আবু দাউদ, খ- ১, পৃষ্ঠা ৫৩৮ হাদিস নং: ১৪৩১)

৯. عن ابى بن كعب ان عمر بن الخطاب امره ان يصلى باليل فى رمضان فصلى بهم عشرين ركعة

হযরত উবায় বিন কাব রাঃ বলেন: হযরত ওমর রাঃ আমাকে এই মর্মে আদেশ দিলেন যে, আমি যেন লোকদেরকে তারাবীহ পড়াই। তখন বিশ রাকাত পড়া হতো। {কানযুল উম্মাল-৮/২৬৪}

১০. হজরত উমার (রা.) ও উসমান (রা.) এর শাসনামলে তারাবীহ ছিল ২০ রাকাত।

عن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلى فى رمضان عشرين ركعة والوتر

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ রমজান মাসে বিশ রাকাত এবং বিতির পড়তেন।

{মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৫, হাদীস নং- ৭৬৯২, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ-২১৮, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১২১০২, মাজমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৭২, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৩৯১}

১১. عن ابى عبد الرحمن السلمى عن على قال دعى القراء فى رمضان فامر منهم رجلا يصلى بالناس عشرين ركعة قال وكان على يوتر بهم

হযরত আবু আব্দুর রহমান সুলামী বলেনঃ হযরত হযরত আলী রাঃ রমজান মাসে কারীদের ডাকতেন। তারপর তাদের মাঝে একজনকে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতে হুকুম দিতেন। আর বিতিরের জামাত হযরত আলী নিজেই পড়াতেন। {বায়হাকী-৪/৪৯৬}

১২. عن ابى الحسناء ان عليا امر رجلا ان يصلى بالناس خمس ترويحات عشرين ركعة

হযরত আবুল হাসনা বলেন: হযরত আলী রাঃ এক ব্যক্তিকে পাঁচ তারাবীহ এর সাথে বিশ রাকাত পড়াতে হুকুম দিয়েছেন। {সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৪৮০৫, ৪৩৯৭, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৩৪৭৪}

হযরত আলী রাঃ নিজেই রাসূল সাঃ থেকে বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি বিদআতের উৎপত্তি করবে তার ফরজ, নফল কিছুই কবুল হয় না। {বুখারী-২/১০৮৪, মুসলিম-১/১৪৪}

১৩. عن زيد بن وهب قال كان عبد الله يصلي بنا في شهر رمضان فينصرف وعليه ليل قال الا عمش كان يصلى عشرين ركعة ويوتر بثلث

হযরত জায়েদ বিন ওহাব বলেন: হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ আমাদের তারাবীহ পড়িয়ে ফারিগ হতেন এমতাবস্থায় যে, তখনো রাত অনেক বাকি থাকতো, ইমাম আমাশ বলেন: তিনি বিশ রাকাত তারাবীহ আর তিন রাকাত বিতির পড়াতেন। [সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, খ- ২, পৃষ্ঠা ৪৯৭, কিয়ামুল লাইল-১৫৭]

১৩. ابو حنيفة عن حماد عن ابراهيم ان الناس كانوا يصلون خمس ترويحات فى رمضان

হযরত ইমাম আবু হানীফা রহঃ, হযরত ইবরাহীম [মৃত্যু-৯৬হিজরী] থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয় লোকেরা [সাহাবী ও তাবেয়ীগণ] রমজান মাসে পাঁচ তারবীহার সাথে বিশ রাকাত তারাবীহ পড়তো। {কিতাবুল আসার লিআবী ইউসুফ}

১৪. عن عبد العزيز بن رفيع قال كان ابى بن كعب يصلى بالناس فى رمضان بالمدينة عشرين ركعة ويوتر بثلاثة

হযরত আব্দুল আজীজ বিন রফী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: হযরত উবায় বিন কাব রাঃ লোকদেরকে রমজান মাসে মদীনা মুনাওয়ারায় বিশ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বিতির নামায পড়াতেন। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৪}

১৫. عن عطاء قال ادركت الناس وهم يصلون ثلثة وعشرون ركعة بالوتر

হযরত আতা [মৃত্যু-১১৪হিজরী] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি লোকদের [সাহাবী ও তাবেয়ীগণ] বিশ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বিতির পড়তে দেখেছি। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৪}

১৬. كان يؤمنا سويد بن غفلة فى رمضان فيصلى خمس ترويحات عشرين ركعة

হযরত সুইয়াইদ বিন গাফালা রমজান মাসে আমাদের জামাতের সাথে পাঁচ তারবীহায় বিশ রাকাত নামায পড়াতেন। {বায়হাকী-২/৪৯}

১৭. عن ابى البخترى انه كان يصلى خمس ترويحات فى رمضان ويوتر بثلاث

হযরত আবুল বুখতারী রহঃ বলেনঃ তিনি রমজানে পাঁচ তারাবীহায় বিশ রাকাত ও তিন রাকাত বিতির পড়তেন। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৭৬৮৬}

১৮.عن سعيد بن ابى عبيد ان على بن ربيعة كان يصلى بهم فى رمضان خمس ترويحات ويوتر بثلاث

হযরত সাঈদ বিন আবু উবায়েদ থেকে বর্ণিত। হযরত আলী বিন রাবীয়া পাঁচ তারবীহা তথা বিশ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বিতির জামাতের সাথে পড়তেন। {মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৫, মিরকাত-৩/১৯৪, ইতহাফুল সাদাতিল মুত্তাকীন-৩/৪২২, আনারাতুল মাসাবীহ-১৮, হাশিয়ায়ে শরহে বেকায়া মাওলানা আব্দুল হাই লৌক্ষèবী রহঃ, উমদাতুল কারী-৫/২৬৭, ফাতাওয়ায়ে কাজীখান-১১০,আলমুগনী-১/৮০৩, শরহে মুকান্না’-১/৮৫২, আওযাজুল মাসালেক-১/৩৯০,আউনুল বারী-২/৩০৭, ফাতহুল কাদীর-১/৪০৭।, আরফুশ শাজী-২৩০,আলবাহরুর রায়েক-২/৬৬, ফাতাওয়ায়ে শামী-১/৫১১, বাদায়েউস সানায়ে-১/২৮৮, শরহে মুনিয়্যা-৩৮৮।

১৯. হজরত জায়েদ ইবন ওহাব (রহ.) বলেন, হজরত আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) আমাদের তারাবীহ পড়িয়ে ফারিগ হতেন এমতাবস্থায় যে, তখনো রাত অনেক বাকি থাকতো, ইমাম আ’মাশ বলেন, তিনি ২০ রাকাত তারাবীহ আর তিন রাকাত বিতির পড়াতেন। (কিয়ামুল লাইল, পৃষ্ঠা ১৫৭)

২০. হজরত ইমাম আবু হানীফা, ইমাম হাম্মাদ, হজরত ইবরাহীম (মৃ. ৯৬ হি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, ‘নিশ্চয় লোকেরা (সাহাবী ও তাবেয়ীগণ) রমজান মাসে পাঁচ তারবীহের সাথে ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। (কিতাবুল আসার লিআবী ইউসুফ, পৃষ্ঠা ৯৭, আহলে তারাবীহর রাকাত হয় ২০+২০=৪০ রাকাত)

২১. হজরত আব্দুল আজীজ ইবন রফী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত উবায় ইবন কাব (রা.) লোকদেরকে রমজান মাসে মদীনা মুনাওয়ারায় ২০ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বেতের নামাজ পড়াতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, খ- ২, পৃষ্ঠা ৩৯৩)

আট রাকাত তারাবিহের প্রমাণ করতে তাহাজ্জুদের দলীল উপস্থাপন কাম্য নয়।

عن أبي سلمة بن عبد الرحمن أنه أخبره : أنه سأل عائشة رضي الله عنها كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه و سلم ‏في رمضان ؟ فقالت ما كان رسول الله صلى الله عليه و سلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة يصلي أربعا ‏فلا تسل عن حسنهن وطولهن ثم يصلي أربعا فلا تسل عن حسنهن وطولهن ثم يصلي ثلاثا . قالت عائشة فقلت يارسول الله ‏أتنام قبل أن توتر ؟ . فقال يا عائشة إن عيني تنامان ولا ينام قلبي‎ ‎‏ (صحيح البخارى- أبواب التهجد، باب قيام النبي صلى ‏الله عليه و سلم بالليل في رمضان وغيره(সহীহ বুখারী-‎১/১৫৪) ‎

২ নং দলিল ‎:

عن جابر بن عبد الله قال : صلى بنا رسول الله صلى الله عليه و سلم في رمضان ثمان ركعات والوتر فلما كان من القابلة اجتمعنا في ‏المسجد ورجونا أن يخرج إلينا فلم نزل في المسجد حتى أصبحنا فدخلنا على رسول الله صلى الله عليه و سلم فقلنا له : يا رسول الله ‏رجونا أن تخرج إلينا فتصل بنا فقال : كرهت أن يكتب عليكم الوتر

হযরত জাবের রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে রামযানে ৮ রাকাত নামায ও বিতর নামায পড়লেন, ‎তারপর যখন পরদিন হল আমরা মসজিদে একত্রিত হলাম এবং আকাংখা করলাম নবীজী সাঃ আমাদের কাছে আসবেন। ‎আমরা মসজিদে অবস্থান করতে লাগলাম। প্রভাত হয়ে গেল। তখন আমরা গেলাম নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে। তাকে বললাম-হে ‎আল্লাহর রাসূল! আমরা আকাংখী ছিলাম আপনি আমাদের কাছে যাবেন এবং আমাদের নিয়ে নামায পড়বেন, তখন তিনি ‎বললেন-আমি এটি পছন্দ করছিলামনা যে, তোমাদের উপর বিতর ফরয হয়ে যাক। (কিয়ামুল লাইল-৯০)‎

* শায়েখ ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেন- আর যারা ধারণা করে যে, নিশ্চয় রামযানের দন্ডায়মানতার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রমাণিত ‎আছে নবীজী সাঃ থেকে যার উপর বাড়ানো কমানো যাবেনা সে ভুলের মাঝে আছে। (ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া-২/৪০১)‎

আসল কথা হলো এই যে, এই হাদিসটি তাহাজ্জুদ নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট।

* হাদিসটিতে মূলত তাহাজ্জুদের বর্ণনা এসেছে এ কথার দলিল

১. বিতির অধ্যায়

২.নবীজী (সা.) রাতে (নামাজের উদ্দেশ্যে) দ-ায়মান তা রামযানে ও রামযান ছাড়া অধ্যায়ে।

৩. আল্লামা হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, আর আমার কাছে এটি প্রকাশিত হয়েছে যে, ১১ রাকাতের থেকে না বাড়ানোর রহস্য এটি যে, নিশ্চয়ই তাহাজ্জুদ ও বিতিরের নামাজ রাতের নামাজের সাথে খাস। (ফাতহুল বারী শরহুল বুখারী, খ- ৩, পৃষ্ঠা ১৭)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারাবীহ নামায তিন দিন পড়ার পর তৃতীয় দিন বলেছেন:

অর্থাৎ লোকেরা: তোমরা নিজেদের ঘরে নামায পড়, নিশ্চয় ফরজ নামায ছাড়া বাকি নামায স্বীয় ঘরে পড়া উত্তম। {বুখারী-১/১০১, মুসলিম-১/২৬৬} তাই ঘর রেখে আপনারা মসজিদে কেন?

সন্মানিত বন্ধুগণ! ২০ রাকায়াত তারাবীহকে বিদয়াত বলা কি ঠিক?

* আমরা সারা বছর ইশার নামাযের পরপরই বিতির নামায পড়ে থাকি। এর কোন প্রমাণতো হাদীসে নেই। বরং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে বিতির পড়তেন।

* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারাবীহ নামাযে না নিজে পুরো কুরআন খতম করেছেন, না অন্যদের হুকুম দিয়েছেন। অথচ আমাদের কিছু মসজিদে যে, তারাবীহের মাঝে পুরো কুরআনের খতম হয়, শুধু তাই নয়, কিছু মসজিদেতো কুরআন খতমের জন্য নামাযে কুরআন মজীদ উঠিয়ে দেখে দেখে পর্যন্ত পড়া হয়।

* আবার যারা রমজানের পুরো মাসব্যাপী আট রাকাত তারাবীহ আর এক রাকায়াত বিতির পড়ে থাকেন এ নয় রাকায়াতের কোন হাদীস আছে কি?

* আপনারা যেহেতু বলে থাকেন যে, তারাবীহ আর তাহাজ্জুদ একই নামাযের দু’টি নাম। এ দুই নাম মূলত এক নামাযের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এরকম বক্তব্য নির্ভর একটি সহীহ হাদীস নেই।

* কেউই রমজান ছাড়া এ তারাবীহ/তাহাজ্জুদ নামায এতটা গুরুত্ব দিয়ে পড়ে থাকেন না। রমজান ও রমজান ছাড়া একই নামাযের এ পার্থক্য কিভাবে হয় ?

* যারা আট রাকায়াত তারাবীহকে জামাতের সাথে পুরো মাসে মসজিদের মাঝে ইশার পরপর পড়াকে যে সুন্নতে মুআক্কাদা বলে থাকেন, আর বিশ রাকাত তারাবীহকে বেদআত ও হারাম বলে থাকেন, এ ব্যাপারেও সতর্কভাবে কথা বলা উচিত। অন্যথায় মুনকিরে হাদীস বা হাদীস অস্বিকারকারী হিসাবে গজবে পড়তে হবে।

শেষ কথা

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নির্দেশ হলো “রাতের নামায ২ রাকাত ২ রাকাত করে” (বুখারী-মুসলিম) অতএব প্রতি রাতে ২ রাকায়াত করে যত রাকায়াতই হোক তার কোনো শেষ সীমা বলা হয়নি। তবে সবশেষে নবীজি সা: বিতর নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। খোলাফায়ে রাশেদীন, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও সকল যুগের সকল মুহাদ্দিস, ফকিহ ও মুফতিগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হলো তারাবিহ নামায ২০ রাকায়াত। ইসলামের সকল যুগে, সকল ইসলামী দুনিয়ায় মুসলিম উম্মাহ্র নিরবিচ্ছন্ন আমল ছিল ২০ রাকাতের তারাবীহ। বর্তমানেও মক্কা মদীনাসহ সারা দুনিয়ায় অধিকাং স্থানেও চলছে ২০ রাকায়াত। ৮, ১১, ১০, ১৩, ২০, ২৩, ২৪, ২৭, ৩৬, ৩৯, ৪০ রাকায়াতের পক্ষেও অনেক সহীহ্ হাদীস বিদ্যমান। অথচ বিদ্যার ঠাকুর এসে তাহাজ্জুদের হাদিসকে টেনে এনে তারাবিতে লাগিয়ে দিয়ে উম্মাহকে মসজিদ থেকে ও ইবাদাত থেকে দূরে রাখতে বিগত কয়েক বছর যাবৎ তৎপর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে চড়া মূল্যে চাং ক্রয় করে এ মুস্তাহাব আমল থেকে মুসল্লিম উম্মাহকে বিরত রাখা এবং মুসিলম উম্মাহর মাঝে বিভেদ-বিশৃংখলা সৃষ্টির কাজে মশগুল রয়েছেন। যে বিষয়টি এক সময়ে কেবলমাত্র মুফতি, মুহাদ্দিস ও মুহাক্কে উলামায়ে কেরামের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল সে ইখতেলাফি বিষয় নিয়ে সাধারণ মুসল্লিম উম্মাহর মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে বিভেদ, বিরোধিতা ও হিংসার আগুন ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে ঈমানদার মুসলমানদের পারস্পারিক ভ্রাতিত্ব ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের লালিত মধুর সম্পর্ক দিন দিন ফাটল ধরছে। ইদানিং পত্র পত্রিকায় ও মিডিয়ায় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোনের মাঝেও এ সমস্ত খুচরাখাসরি মাসায়েল নিয়ে বিতর্কের আগুন জ¦লছে। নষ্ট হচ্ছে পারিবারিক সমঝোতা, সম্প্রীতি! এর দায় কার? মুসলিম উম্মাহর মাঝে এ সকল শত্রুতা ও অনৈক্য সৃষ্টিকারীদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আর মনে রাখতে হবে তারাবীহ নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, তা কোন সময়ই ফরজ বা ওয়াজিব মনে করা যাবে নাهذا ما عندي والعلم عند الله ى

বিষয়: বিবিধ

১৫৭০ বার পঠিত, ৩ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

386636
১০ মে ২০১৯ দুপুর ০৩:৪৪
হতভাগা লিখেছেন : আমার মতামত হল:

তারাবী শুরু হয় রাত পৌনে ৯ টায়। শেষ হতে হতে ১১ টা বেজে যায়। সেখান থেকে বাসায় ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে বেজে যায় সাড়ে ১১ টা। রাত আড়াইটা/তিনটায় সাহরী খেতে উঠা লাগে।

মানে ঘুম হয় ৩/৩.৫ ঘন্টা।

সাহরি খেয়ে নামাজ পড়ে ঘুমাতে যেতে লেগে যায় ভোর সাড়ে ৪ টা।
সকাল সাড়ে নয়টায় অফিস যাদের তাদের হ্যাসল ফ্রি ভাবে অফিসে পৌছতে চাইলে সকাল ৭টা সোয়া সাতটার মধ্যে বের হতে হবে। সেটার জন্য ঘুম থেকে উঠা লাগে সকাল ৬/সাড়ে ৬ টায়।

মানে সাহরির পর ১.৫/২ ঘন্টা ঘুম হয়।

আগের ৩/৩.৫ ঘন্টার সাথে মিলিয়ে হল ৪.৫-৫.৫ ঘন্টার ঘুম।

রোজা রাখতে হয় সকাল ৩.৫২ মি. হতে বিকাল ৬.৩৪ মি. - মানে ১৪ ঘন্টা ৪২ মিনিট আপনাকে না খেয়ে থাকতে হবে এবং সাথে সকাল সাড়ে নয় টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ৬ ঘন্টা অফিসে থাকা লাগবে ।

সকালে অফিসে যেতে লাগবে ১ ঘন্টা আর বিকেলে বাসায় ফিরতে লাগে আড়াই ঘন্টা - মানে মোট সাড়ে তিন ঘন্টা আপনাকে রাস্তায় থাকা লাগছে অফিসে আসা যাওয়ার পথে। তার উপর এখন প্রচন্ড গরম পড়েছে। রাতেও সেই তেজ ভালই থাকে।

এই দীর্ঘ সময়ে প্রচন্ড গরমে অফিস করে কম ঘুমিয়ে রোজা রাখা কি সহজ কথা?

যদি সাড়ে ১১ টার পরিবর্তে সাড়ে নয়টা কিংবা ১০ টায় ঘুমাতে যাওয়া যেত তাহলে ঘুমের পরিমান ৭ ঘন্টা হতে পারতো যা কি না একজন মানুষের স্বাভাবিক পরিমান ঘুমের সমান। তাতে শরীর ও মন রোজার মত ফরয কাজ পালন করার ব্যাপারে বেশী ফিট রাখা যেত।
২৩ মে ২০১৯ রাত ০১:০১
318393
কুয়েত থেকে লিখেছেন : আপনার লেখাটির উত্তর দেওয়ার জন্য অন্তত দশ দিন চেষ্টা করেছি। লেখেছিও পোষ্ট করার সাথে সাথেই আউট হয়ে যায়। ভাইজান আল্লাহ তায়ালা সকল কিছু সহজ করেন কঠিন করেন না। আনার কথার যুক্তি আছে সময়মতো আপনার সুযোগ অনুযায়ী এবাদত করবেন।ফরজ ওয়াজিব টিক সময় মতো আদায় করবেন। আল্লাহ আপনার সকল ভালো কর্ম কবুল করুন।আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
386639
১৭ মে ২০১৯ দুপুর ০১:৪৭
কুয়েত থেকে লিখেছেন : আমাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ কি !?

আমি জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত করা সেই ইব্রাহিমের (আ.) জেগে থাকা দুঃসাহসী সন্তান !

যে কালজ্বয়ী আদর্শ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যুগের শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদী মানুষ গুলোকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে আমিতো সেই রক্তাক্ত পথের এক অগ্রপথিক !

মহান স্রষ্টার রাজ্যে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখার অপরাধে যে সব দ্বীনের দাঈদের বেঁধে করাত দিয়ে দ্বিখন্ডিত করা হয়েছে,
আমিতো সেই শহীদী কাফেলার যাত্রী !

যে মানুষটিকে আপন ভূমি হতে তাড়াতে গিয়ে নিজেই নীল নদে ডুবে মরেছে, আমিতো সেই ফেরাউনের চিরশত্রু মূসার (আ.) উত্তরসূরী !

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ যে মানুষটি আল আমিন উপাধী পেয়েও মাতৃভূমি মক্কা হতে নির্মমভাবে বিতাড়িত হয়েছিল, আমিতো সেই মোহাম্মদ (সাঃ) এর দ্বীনের অকুতোভয় খলিফি তোবা !

হ্যাঁ, ভাই আমি জানি !
হ্যাঁ, বোন আমি বুঝি !

আমার আদর্শ, আমার ঐতিহ্য ..
বড় পিচ্ছিল, রক্তাক্ত !

আমার নামাজ, আমার কুরবানী,
সব কিছুই একমাত্র আল্লাহর জন্য !

ধর্মহীন গনতন্ত্রের প্রেতাত্নারা উলঙ্গ সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে যদি আমাকে উপাধী দেয় আমি মানবতাবিরোধী (!?) তবে আমি তাই !

আমাকে যদি উপাধী দেয় আমি রাজাকার (!?) তবে আমি তাই !

পৃথিবীর সব নবী ও রাসূল আর যুগের শ্রেষ্ঠ আলেমদের বিরুদ্ধে সব যুগের জালেমরা একই সুরে কথা বলেছে !

মুহাম্মদ (সাঃ) এর চাচা আমির হামযার শহীদি মিছিলে যোগ দেয়া মালেকের উত্তরসূরি আমি !

প্রভুর দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অকুতোভয় সৈনিক আমি !

সেই কবেইনা নিজেকে সঁপেছি এ শহীদি
মিছিলে !

আমি জিন্দাবস্থায় মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা দুনিয়া ত্যাগী শহীদি মিছিলের যাত্রী !

আমি জানি আমার মৃত্যু নেই,
আমি মরেও জীবিত !

তাইতো আমি আবারও চিৎকার করে নির্ভয়ে বলি ...
আমাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ কি !?

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File