মহান আল্লাহ তাহার হাবিব হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ) কে ইসরা ওয়াল মিরাজ করিয়েছিলেন তাহার নিদর্শন গুলো পর্যাবেক্ষন করানোর জন্যই

লিখেছেন লিখেছেন কুয়েত থেকে ২২ মার্চ, ২০১৯, ০৯:১৫:২২ সকাল



بْحٰنَ الَّذِىٓ أَسْرٰى بِعَبْدِهِۦ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَا الَّذِى بٰرَكْنَا حَوْلَهُۥ لِنُرِيَهُۥ مِنْ ءَايٰتِنَآ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

পবিত্র তম সে মহান সত্তা যিনি নিয়ে গেছেন এক রাতে নিজের বান্দাকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আক্‌সা পর্যন্ত, যার পরিবেশকে তিনি বরকতময় করেছেন, যাতে তাকে নিজের কিছু নিদর্শন দেখান।১ আসলে তিনিই সবকিছুর শ্রোতা ও দ্রষ্টা।

এ ঘটনাটিই আমাদের পরিভাষায় ইস্রা ওয়াল মিরাজ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। অধিকাংশ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসের বর্ণনা অনুসারে এ ঘটনাটি হিজরাতের এক বছর আগে সংঘটিত হয়। হাদীস ও সীরাতের বইগুলোতে এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ রয়েছে। বিপুল সংখ্যক সাহাবী এ ঘটনা বর্ণনায় সামিল হয়েছে। তাহাদের সংখ্যা ২৫ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তাহাদের মধ্য থেকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ), হযরত মালিক ইবনে সা’সা (রা), হযরত আবু যার গিফারী (রা) ও হযরত আবু হুরাইরা (রা.)। এঁরা ছাড়াও হযরত উমর (রা.), হযরত আলী (রা.), হযরত আবুদল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামন (রা.), হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) এবং আরো বিভিন্ন সাহাবী থেকেও এ ঘটনার অংশ বিশেষ বর্ণিত হয়েছে।

কুরআন মজীদ এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুধুমাত্র মসজিদে হারাম (অর্থাৎ বায়তুল্লাহ তথা কাবা শরীফ) থেকে মসজিদে আকসা (অর্থাৎ বায়তুল মাক্দিস) পর্যন্ত যাওয়ার কথা বর্ণনা করছে। এ সফরের উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলছে, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে তাঁর নিজের কিছু নিদরশানী দেখাতে চাচ্ছিলেন। কুরআনে এর বেশী কিছু বিস্তারিত বলা হয়নি। হাদীসে এর যে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে তার সংক্ষিপ্ত সার হচ্ছে রাতে জিব্রীল আলাইহিস সালাম তাঁকে উঠিয়ে বুরাকের পিঠে চড়িয়ে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত নিয়ে যান। সেখানে তিনি আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামদের সাথে নামায পড়েন। তারপর জিব্রীল (আ) তাঁকে ঊর্ধ্ব জগতে নিয়ে চলেন এবং সেখানে আকাশের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন বিপুল মর্যাদাশালী নবীর সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়। অবশেষে উচ্চতার সর্বশেষ পর্যায়ে পৌঁছে তিনি নিজের রবের সামনে হাযির হন। এ উপস্থিতির সময় অন্যান্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ ছাড়াও তাঁকে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়া সংক্রান্ত আদেশ জানানো হয়। এরপর তিনি আবার বায়তুল মাকদিসের দিকে ফিরে আসেন। সেখান থেকে মসজিদে হারামে ফিরে আসেন। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত বিপুল সংখ্যক হাদীস থেকে জানা যায়, তাঁকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানো হয়। তাছাড়া বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদীসে একথাও বলা হয়েছে যে, পরের দিন যখন তিনি লোকদের সামনে এ ঘটনা বর্ণনা করেন তখন মক্কার কাফেররা তাঁকে ব্যাপকভাবে বিদ্রূপ করতে থাকে এবং মুসলমানদের মধ্যে কারো কারো ঈমানের ভিত নড়ে ওঠে।

হাদীসের এ বাড়তি বিস্তারিত বিবরণ কুরআনের বিরোধী নয়, বরং তার বর্ণনার সম্প্রসারিত রূপ। আর একথা সুস্পষ্ট যে, সম্প্রসারিত রূপকে কুরআনের বিরোধী বলে প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে না। তবুও যদি কোন ব্যক্তি হাদীসে উল্লেখিত এ বিস্তারিত বিবরণের কোন অংশ না মানে তাহলে তাকে কাফের বলা যেতে পারে না। তবে কুরআন যে ঘটনার বিবরণ দিচ্ছে তা অস্বীকার করা অবশ্যই কুফরী।

এ সফরের ধরনটা কেমন ছিল? এটা কি স্বপ্নযোগে হয়েছিল, না জাগ্রত অবস্থায়? আর নবী ﷺ কি সশরীরে মি’রাজ সফর করেছিলেন, না নিজের জায়গায় বসে বসে নিছক রূহানী পর্যায়ে তাঁকে সবকিছু দেখানো হয়েছিল? কুরআন মজীদের শব্দাবলীই এসব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে। বলা হয়েছে سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِہٖ শব্দগুলো দিয়ে বর্ণনা শুরু করায় একথা প্রমাণ করে যে, এটি প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রমধর্মী একটি অতি বড় ধরনের অসাধারণ তথা অলৌকিক ঘটনা ছিল, যা মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতায় সংঘটিত হয়। একথা সুস্পষ্ট যে, স্বপ্নের মধ্যে কোন ব্যক্তির এ ধরনের কোন জিনিস দেখে নেয়া অথবা কাশফ হিসেবে দেখা কোন ক্ষেত্রে এমন গুরুত্ব রাখে না, যা বলার জন্য এ ধরনের ভূমিকা ফাঁদতে হবে যে, সকল প্রকার দুর্বলতা ও ত্রুটিমুক্ত হচ্ছে সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে এ স্বপ্ন দেখিয়েছেন অথবা কাশফের মাধ্যমে এসব দেখিয়েছেন। তারপর “এক রাতে নিজের বান্দাকে নিয়ে যান” এ শব্দবলীও দৈহিক সফরের কথাই সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে। স্বপযোগে সফর বা কাশফের মধ্যে সফরের জন্য নিয়ে যাওয়া শব্দাবলী কোনক্রমেই উপযোগী হতে পারে না। সুতরাং আমাদের এ কথা মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নেই যে, এটি নিছক একটি রূহানী তথা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ছিল না। বরং এটি ছিল পুরোদস্তুর একটি দৈহিক সফর এবং চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ। আল্লাহ নিজেই তাঁর নবীকে এ সফর ও পর্যবেক্ষণ করান।

এখন যদি এক রাতে উড়োজাহাজ ছাড়া মক্কা থেকে বায়তুল মাকদিস যাওয়া আল্লাহর ক্ষমতার সম্ভবপর হয়ে থাকে, তাহলে হাদীসে যেসব বিস্তারিত বিবরণ এসেছে সেগুলোকেই বা কেমন করে অসম্ভব বলে প্রত্যাখ্যান করা যায়? সম্ভব ও অসমম্ভবের বিতর্ক তো একমাত্র তখনই উঠতে পারে যখন কোন সৃষ্টির নিজের ক্ষমতায় কোন অসাধারণ কাজ করার ব্যাপার আলোচিত হয়। কিন্তু যখন আল্লাহর কথা আলোচনা হয়, আল্লাহ অমুক কাজ করেছেন, তখন সম্ভাব্যতার প্রশ্ন একমাত্র সে-ই উঠাতে পারে যে, আল্লাহকে সর্বশক্তিমান বলে বিশ্বাস করে না। এছাড়াও অন্যান্য যেসব বিস্তারিত বিবরণ হাদীসে এসেছে সেগুলোর বিরুদ্ধে হাদীস অস্বীকারকারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আপত্তি উত্থাপন করা হয়। কিন্তু এগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র দু’টি আপত্তিই কিছুটা গুরুত্বসম্পন্ন।

একঃ এর আগেই আল্লাহর একটি বিশেষ স্থানে অবস্থান করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। অন্যথায় বান্দার সফর করে একটি বিশেষ স্থানে গিয়ে তাঁর সামনে হাযির হবার কি প্রয়োজন ছিল?

দুইঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কেমন করে বেহেশত ও দোযখ এবং অন্যান্য কিছু লোকের শাস্তি লাভের দৃশ্য দেখিয়ে দেয়া হলো? অথচ এখনো বান্দাদের স্থান ও মর্যাদার কোন ফায়সালাই হয়নি। শাস্তি ও পুরস্কারের ফায়সালা তো হবে কিয়ামতের পর কিন্তু কিছু লোকের শাস্তি এখনই দেয়া হয়ে গেলো, এ আবার কেমন কথা?

কিন্তু এ দু’টি আপত্তিই আসলে স্বল্প চিন্তার ফল। প্রথম আপত্তিটি ভুল হবার কারণ হচ্ছে এই যে, স্রষ্টার সত্তা নিঃসন্দেহে অসীমতার গুণাবলী সম্পন্ন, কিন্তু সৃষ্টির সাথে আচরণ করার সময় তিনি নিজের কোন দুর্বলতার কারণে নয় বরং সৃষ্টির দুর্বলতার জন্য সীমাবদ্ধতার আশ্রয় নেন। যেমন সৃষ্টির সাথে কথা বলার সময় তিনি কথা বলার এমন সীমাবদ্ধ পদ্ধতি অবলম্বন করেন যা একজন মানুষ শুনতে ও বুঝতে পারে। অথচ তাঁর কথা মূলতই অসীমতার গুণ সম্পন্ন। অনুরূপভাবে যখন তিনি নিজের বান্দাকে নিজের রাজ্যের বিশাল মহিমান্বিত নিশানীসমূহ দেখাতে চান তখন বান্দাকে নিয়ে যান এবং যেখানে যে জিনিসটি দেখবার দরকার সেখানেই সেটি দেখিয়ে দেন। কারণ বান্দা সমগ্র সৃষ্টিলোককে একই সময় ঠিক তেমনিভাবে দেখতে পারে না যেমনিভাবে আল্লাহ দেখতে পারেন। কোন জিনিস দেখার জন্য আল্লাহকে কোথাও যাওয়ার দরকার হয় না। কিন্তু বান্দাকে যেতে হয়। স্রষ্টার সামনে হাযির হওয়ার ব্যাপারটিও এ একই পর্যায়ের। অর্থাৎ স্রষ্টা নিজস্বভাবে কোথাও সমাসীন নন। কিন্তু তাঁর সাথে দেখা করার জন্য বান্দা নিজেই একটি জায়গার মুখাপেক্ষী। সেখানে তার জন্য স্রষ্টার জ্যোতির ঝলকসমূহ কেন্দ্রীভূত করতে হয়। নয়তো সীমাবদ্ধ বান্দার জন্য তাঁর অসীম সত্তার সাক্ষাত লাভ সম্ভব নয়।

আর দ্বিতীয় আপত্তিটির ভ্রান্তিত্ত সুস্পষ্ট। কারণ মি’রাজের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন অনেক জিনিস দেখানো হয়েছিল। যার অনেকগুলোই ছিল আসল সত্যের প্রতীকী রূপ। যেমন একটি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী বিষয়ের প্রতীকী রূপ ছিল এই যে, একটি ক্ষুদ্রতম ছিদ্রের মধ্য থেকে একটি মোটা সোটা ষাঁড় বের হলো এবং তারপর আর তার মধ্যে ফিরে যেতে পারলো না। অথবা যিনাকারীদের প্রতীকী রূপ ছিল, তাদের কাছে উন্নত মানের তাজা গোশত থাকা সত্বেও তারা তা বাদ দিয়ে পচা গোশত খাচ্ছে। অনুরূপভাবে খারাপ কাজের যেসব শাস্তি তাঁকে দেখানো হয়েছে সেখানেও পরকালীন শাস্তিকে রূপকভাবে তাঁর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

মি’রাজের ব্যাপারে যে আসল কথাটি বুঝে নিতে হবে সেটি হচ্ছে এই যে নবীদের মধ্য থেকে প্রত্যেককে মহান আল্লাহ তাঁদের পদ মর্যাদানুসারে পৃথিবী ও আকশের অদৃশ্য রাজত্ব দেখিয়ে দিয়েছেন এবং মাঝখান থেকে বস্তুগত অন্তরালে হটিয়ে দিয়ে চর্মচক্ষু দিয়ে এমন সব জিনিস প্রত্যক্ষ করিয়েছেন যেগুলোর ওপর ঈমান বিল গায়েব আনার জন্য তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এভাবে তাঁদের মর্যাদা একজন দার্শনিকের মর্যাদা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যাবে। দার্শনিক যা কিছু বলেন, আন্দাজ-অনুমান থেকে বলেন। তিনি নিজে নিজের মর্যাদা সম্পর্কে জানলে কখনো নিজের কোন মতের পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন না। কিন্তু নবীগণ যা কিছু বলেন, সরাসরি জ্ঞান ও চাক্ষুস দর্শনের ভিত্তিতে বলেন। কাজেই তাঁরা জনগণের সামনে এ মর্মে সাক্ষ্য দিতে পারেন যে, তাঁরা এসব কথা জানেন এবং এসব কিছু তাঁদের স্বচক্ষে দেখা জ্বলজ্যান্ত সত্য।

বিষয়: বিবিধ

৯৬৮ বার পঠিত, ৩ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

386578
০২ এপ্রিল ২০১৯ রাত ১০:৩১
কুয়েত থেকে লিখেছেন : সুরা আল-হুজরাত:--11) মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম।

(12) মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

(13) হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।

(14) মরুবাসীরা বলেঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুনঃ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।

(15) তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।

(16) বলুনঃ তোমরা কি তোমাদের ধর্ম পরায়ণতা সম্পর্কে আল্লাহকে অবহিত করছ? অথচ আল্লাহ জানেন যা কিছু আছে ভূমন্ডলে এবং যা কিছু আছে নভোমন্ডলে। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

(17) তারা মুসলমান হয়ে আপনাকে ধন্য করেছে মনে করে। বলুন, তোমরা মুসলমান হয়ে আমাকে ধন্য করেছ মনে করো না। বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাক।

(18) আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্য বিষয় জানেন, তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন।।।
386581
০৩ এপ্রিল ২০১৯ দুপুর ০৩:০১
কুয়েত থেকে লিখেছেন : মহানবী সা. মিরাজের মাধ্যমে সমাজ বিপ্লবের জন্য ১৪টি মূলনীতি পেয়েছেন -জুলফিকার আহমেদ কিসমতী
রবিবার ১৯ জুন ২০১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

মানররচিত পক্ষপাতদুষ্ট আইন ও নিয়ম বিধির যাঁতকলে নিষ্ট হয়ে মানবতা আজ ত্রাহি ত্রাহি করছে। মানব আইনের ব্যর্থতাজনিত সমস্যাবলী আজ পূর্ব পশ্চিম বিশ্বের সকল দিককেই আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। এ থেকে এটাই প্রমাণিত হয়, যে সর্বজ্ঞানের উৎস মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে মিরাজ রজনীতে তাঁর স্বান্নিধ্যে ডেকে নিয়ে সর্বকালের সর্বযুগের মানুষের কল্যাণে যেই শাশ্বত বিধান দিয়েছেন মানবজাতি যত দিন না সে বিধানের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে, তার সঠিক পথের দিশা পাবে না। তাই মহাকাশ পাড়ি দিয়ে মহানবী (সা.) বিশ্বজাহানের স্রষ্টার সান্নিধ্যে গিয়ে মানব কল্যাণে কি কি বিধান এনেছেন, মিরাজ রজনীতে সকল মানুষের কর্তব্য হলো, আল কুরআন ও নবী জীবনের বক্তব্য থেকে সেসব বিধানের অন্বেষণ এবং সে অনুযায়ী ব্যক্তি ও সমাজজীবনকে গড়ে তোলার ইস্পাত কঠিন শপথ গ্রহণ করা। উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ শেষ নবীর মিরাজের মাধ্যমে মানবজাতির জন্যে তার ১৪টি মূলনীতি তাঁকে প্রকাশ করেন, যেগুলোর ভিত্তিতে রাসূল (সা.) যেন একটি সার্থক সমাজ বিপ্লবের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারেন, ১৪টি মূলনীতি হল : (১) একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করা ও তার সঙ্গে কাউকে শরিক না করা (২) পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, (৩) আত্মীয়স্বজন, মিসকিন ও মুসাফিরের হক মেনে চলা, (৪) অপচয় না করা, (৫) যারা আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী তারা যেন কোন ফকির ও প্রার্থীকে বঞ্চিত না করে, (৬) সবসময় কিছু না কিছু দান করা; হাতকে গুটিয়ে না রাখা, (৭) অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে হত্যা না করা, (৮) দারিদ্রে্যর অজুহাতে সন্তান হত্যা না করা, কেননা তিনি বলেছেন, তোমাদের ও তাদেরকে রিযিক আমিই' দিয়ে থাকি, (৯) ব্যভিচারের নিকটবর্তী না হওয়া, (১০) এতিমের সম্পদের ধারে কাছেও না যাওয়া, (১১) যে বিষয়ে জ্ঞান নেই অপরে বিরুদ্ধে চর্চা ও অনুসন্ধান না করা, (১২) কিছু মেপে দেয়ার সময় সঠিক ওজন দেয়া, (১৩) প্রতিশ্রুতি পালন করা, (১৪) পৃথিবীতে দম্ভ ভরে চলাফেরা না করা। মিরাজ দিবসের শিক্ষা আদর্শের চর্চা এবং এর মূল লক্ষ্যকে সমাজ জীবনে বাস্তবায়িতকরণে ও আমাদের সার্বিক মুক্তি আনয়নে তখনই তা সহায়ক হবে, যদি আমরা এ ব্যাপারে আপোষহীন প্রত্যাশী হই। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত সভা-মাহফিলসমূহে দেশের বিভিন্ন কর্মকর্তা, উলাম-মাশায়েখ, রাজনীতিক সকলের বক্তব্যে এ কথাটি সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, নবী জীবনের আদর্শকেই আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনের সর্বত্র কার্যকর করতে হবে। এর ভিত্তিতে আমাদের জীবন-চরিত গড়ে তোলার মধ্যেই সার্বিক উন্নতি ও সফলতা নিহিত। এভাবে নবীজীবনের আদর্শের উচ্ছবাসিত প্রশংসার পর সে অনুযায়ী সকলের ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনকে গড়ে তোলার চেষ্টা করা না হলে সেটা হবে আমাদের চরম অসাধুতা এবং মস্তবড় আত্মপ্রতারণা। দেশের সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ উপলক্ষে প্রায় বলেন, ইসলামী জীবনবোধ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ ইসলামের উপর কোন আঘাত সহ্য করবে না। এমনকি তারা আরও হুুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন যে, দেশের মানুষ কোনো মহলকেই ধর্মহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে দিবে না।’’ মিরাজ সীরাতুন্নবী মিলাদুন্নবী ইত্যাদি উপলক্ষে এ ছাড়াও যেখানে তাঁরা আরও বক্তব্য রাখেন, শুনতে বেশ ভালো লাগে। তবে এ জাতীয় কথা, এরূপ দেশবাসী সব সময়ই শুনে আসছে। তবে সেই শোনা এবং দেখার মধ্যে যখন পার্থক্য ঘটে, তখনই বেদনাবোধ না করে পারা যায় না। আমরা সত্যিই যদি এই বিশ্বাস করি এবং এসব বক্তব্য প্রকৃতই আমাদের অন্তরের কথা হয়ে থাকে, তা হলে আমরা কি পারি না নবী জীবনের আদর্শের ভিত্তিতে এ সকল সমস্যার সমাধান করতে? একটি মুসলিম সমাজ যখন কোনো সমস্যা বিশেষ করে পরস্পরের মধ্যে বিরোধ ও মতপার্থক্য দেখা দেয়, তখন সেটা কিভাবে নিত্তি করতে হবে, সেই পথনির্দেশ কি নবী জীবনের আদর্শে আমরা পেতে পারি না, যার আদর্শের প্রশংসায় আমরা পঞ্চমুখ? মহানবীর আদর্শতো এটাই যে, মুসলমানের মধ্যে কোন বিরোধী ও মতপার্থক্য দেখা দিলে সে বিরোধ নিত্তি করতে হবে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশের আলোকে। একটি মুসলিম সমাজের নাগরিক এবং মহানবী (সাঃ)-এর একনিষ্ঠ অনুসারী বলে দাবিদার হিসেবে জাতীয় ইস্যুসমূহে বিতন্ডা ও দ্বনদ্ব-সংঘাতে না গিয়ে নবীর পথে যেতে আমাদের অসুবিধা কোথায়? আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস নবী (সাঃ)-এর যথার্থ অনুসারীদের জন্যে তাতে কোন অসুবিধা থাকার কথা নয়। তবে হ্যাঁ, আমরা যদি সেই ধরনের লোকের মতো অনুসারী হয়ে থাকি, যারা নবী-রাসূলের পক্ষ থেকে কোন কষ্টসাধ্য কাজের হুকুম এলে অথবা ঐ হুকুমের দ্বারা নিজের ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে আঘাত আসলে, তা থেকে পাশ কাটিয়ে চলার ভূমিকা অবলম্বন করতো, তখন অসুবিধা থাকে বৈ কি? বিভিন্ন মুসলিম দেশ বর্তমানে রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে, যদ্দরুন সকলের জাতীয় জীবনের চলার গতি বার বার
386583
০৪ এপ্রিল ২০১৯ বিকাল ০৫:২৬
কুয়েত থেকে লিখেছেন : রাজনীতির তাত্ত্বিক পর্যালোচনাঃ- ( কোরআনে কি রাজনীতি আছে?)
বন্ধুরা,
মাদানী হুজুরের এক অন্ধ মুরীদ বলেছেন কোরআনে সরাসরি নাকি রাজনীতির কথা নেই।

এখন আমি আলোচনা করব কোরআনে সত‍্যি কি রাজনীতি নেই?
বন্ধুরা, রাজনীতির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে,রাজার নীতি বা নীতির রাজা।
আগেকার রাজা বাদশারা জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য নিজেরা আইন তৈরি করতো এবং তাদের রচিত আইন কানুন সর্বত্র কার্যকর করা হতো।
আধুনিক যুগে তার অবয়ব একটু পরিবর্তন হয়েছে, এখন আইন কানুন রচনা করে রাজনীতিবিদরা এবং জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠান তাদের রচিত আইন কানুন অনুযায়ী চলে।

ইসলাম এসেছে মানুষের আইন কানুন ও সার্বভৌমত্ব খতম করে আল্লাহর শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্যে। কালিমার মূল কথা হল, মানুষের সার্বভৌমত্ব খতম করে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব কায়েম করা।

সূরা ফাতাহর ২৮ নং আয়াতে আল্লাহ পাক রাসুল প্রেরণের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, রাসুলের কাজ হলো, দুনিয়ার অন‍্য সব আইন শাসন ও জীবন ব‍্যবস্থা খতম করে আল্লাহর আইন বিধান ও শাসন কর্তৃত্ব চুড়ান্ত করা।

আল্লাহ পাক সূরা আল আরাফের ৫৪ নং আয়াতে বলেছেন, সৃষ্টি তার, সুতরাং হুকুম শাসন করার অধিকার ও একমাত্র তারই।
সূরা ইউসুফের ৪০ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন, শাসন কর্তৃত্ব ও আইনের সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্যই সংরক্ষিত।

বন্ধুরা, রাজনীতির আক্ষরিক অর্থ যদি নীতির রাজা বা রাজার নীতি হয়, তাহলে আল্লাহর রচিত আইন কানুন শ্রেষ্ঠ নীতি নয় কি? তাহলে যারা বলে কোরআনে রাজনীতি নেই, তারা গন্ড ভন্ড,মুর্খ ও ইসলামের চরম দুশমন কি না?

এবার আসা যাক, আল্লাহর রাজনীতির শ্রেষ্ঠ নীতি মালা কি? আল্লাহর শাসন কর্তৃত্বের শ্রেষ্ঠ নীতিমালা হলো,আল কোরআন।

আল্লাহ পাক সূরা আল কাসাসের ৮৫ নং আয়াতে কোরআনকে গোটা মানব জাতির চুড়ান্ত সংবিধান রূপে সাব‍্যস্ত করেছেন।
সূরা বনী ইসরাইলের-৯ নং আয়াতে কোরআনের পথ ও নীতিকে সবচেয়ে মযবুত ও সরল পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সূরা শুরার-৪২ নং আয়াতে কোরআনকে সত‍্য কিতাব ও মিযান বা মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মিযান অর্থ মানদণ্ড সনদ,ন‍্যায় বিচার,ইনসাফ ও শাসন তান্ত্রিক ব‍্যবস্থা হিসেবে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন।

সূরা আল মায়েদার- ৪৮ নং আয়াতে আল্লাহ পাক তার রাসুলকে কোরআনের শাসনতন্ত্রের ভিত্তিতে দেশ ও মানব জাতি পরিচালনা করার জন্য চুড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন।

তা ছাড়া আরো শত শত আয়াত রয়েছে,যা ইসলামের রাজনৈতিক ধারণাকে চমৎকার ভাবে পরিস্কার করেছেন।

এতো সব রাজনৈতিক আয়াত থাকা সত্ত্বেও যদি মাদানী শাইখ ও তার চেলারা বলে ইসলামে রাজনীতি নেই, আমি বলব তাদেরকে ভূতে ধরেছে। সে ভূতটা কি? আমি অনুমান করি সে ভূতটা হলো, মোসাদ ও ভারতের র।

বন্ধুরা, আল্লাহ পাক তো নিজে এসে এডনিমিস্ট্রেশন বা প্রসাশনিক কাজ পরিচালনা করবেন না বরং তিনি তার প্রতিনিধি প্রেরণ করেছেন।

আল্লাহর প্রতিনিধি কে? সহজ কথায় আল্লাহর প্রতিনিধি হলো, মানুষ। এখন মানুষের কাজ হল,
আল্লাহর কালিমা বা দ্বীন তার জমিনে প্রতিষ্ঠিত করা।

এ দুনিয়ায় চিরকালই দ্বান্দিক অবস্থা বিরাজ করছেন। এক দিকে আল্লাহর আইন আরেক দিকে শয়তানের আইন।
মানুষের কাজ হবে জান মাল দিয়ে বাতিলের আইন কানুন খতম করে আল্লাহর আইন কানুন ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত করা। আর এটার নামই জিহাদ অন‍্য কথায় ইসলামী রাজনীতি।

প্রশ্ন হতে পারে আল্লাহ পাক মানুষের হাতে আইন কানুন রচনা ও শাসন ভার কেন দেন নাই? তার কারণ হলো, সাধারণ ভাবে দেখা যায় মানুষ হয়, আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থবাদী, একদেশদর্শী ও ছোট মনের। তাদের দ্বারা মানব জাতির মাঝে কখনো ইনসাফ কায়েম হয়নি,আর হবে ও না।

বাংলাদেশ তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় আসে তারা তাদের স্বার্থই দেখে বেশি। অন‍্যরা তাদের কাছে হয় নিপড়ীত, নিগৃহীত ও অসহায়, আবার বি এনপি আসলে একই অবস্থা।
সহজ কথায় মানুষের শাসন কর্তৃত্ব দ্বারা কখনোই ইনসাফ কায়েম হবে না।

অপর দিকে আল্লাহর আইন বিধান সকলের জন্যই প্রযোজ্য ও ইনসাফভিত্তিক। আল্লাহর তৈরি চন্দ্র, সূর্য, মাটি ও বাতাস দ্বারা যেমন সকলে উপকৃত হয়, ঠিক তেমনি আল্লাহর আইন বিধান ও শাসন দ্বারা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই ইনসাফ পেয়ে উপকৃত হবে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File