উস্তাদ নোমান আলী খান আমার অনুপ্রেরণা !

লিখেছেন লিখেছেন নৌশাদ আল নোমানী ০৭ আগস্ট, ২০১৯, ০৮:৫৩:১৩ সকাল

উস্তাদ নোমান আলী খান আমার অনুপ্রেরণা!

.

নোমান আলী জন্ম গ্রহণ করেন জার্মানির বার্লিন শহরে।

.

১৯ বছর পর্যন্ত তিনি মুসলিম নামধারী হয়েও নাস্তিকতার মধ্যে ডুবে ছিলেন।

.

তারপর সময় হলো ফিরে আসার, তিনি ইসলামে ফিরে আসেন আগের চেয়ে শতগুণ গতিতে।

.

একদিন আমেরিকান মুসলিম স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের দু’জন সদস্যের সাথে তাঁর দেখা হয়।

.

তাঁরা নিজেদের মধ্যে কোরআনের আলোচনা করছিলেন; তিনি তা শুনছিলেন।

.

তাঁরা কখনো সরাসরি নোমান আলী খানকে কোরআন পড়তে কিংবা সালাত আদায় করতে বলেননি।

.

এমনকি কখনো ইসলামের দাওয়াতও দেননি। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন তাঁরা নোমান আলীর সাথে সময় কাটাতে লাগলেন।

.

এতেই নোমান আলী খানের মধ্যে পরিবর্তন শুরু হয়, একদিন তাঁদের একজন নোমান আলী খানের সামনে সালাত পড়লেন।

.

নোমান আলী খানের কাছে খুব খারাপ লাগলো – কারণ, তিনি সালাতের অনেক কিছুই পারেন না।

.

নিজের অজান্তেই তিনি মুসলিম স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের এ দু’জন ভাইকে বন্ধু ভাবতে লাগলেন।

.

তাঁদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতেও লাগলেন, ধীরে ধীরে তাঁর অন্তরে ইসলাম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়তে থাকে।

.

তিনি কোরআনের অনুবাদ পড়া শুরু করলেন, আল্লামা ইউসুফ আলীর ইংরেজি অনুবাদ পড়তে লাগলেন।

.

কিন্তু অনুবাদের মাধ্যমে কোরআন বুঝা খুবই কষ্টকর।

.

কোথায় বাক্যের শুরু আর কোথায় বাক্যের শেষ, কিছুই তিনি বুঝতে পারছিলেন না।

.

কেনো আল্লাহ হঠাৎ করে এক ইস্যু থেকে অন্য ইস্যুতে চলে যান-এসব কিছুই তিনি অনুবাদ পড়ে বুঝতে পারেননি।

.

তখন তিনি কোরআন বোঝার জন্যে গুগল সার্চ করতে লাগলেন, ইন্টারনেটে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রচুর লেকচার পেলেন।

.

কিন্তু কোরআনের ধারাবাহিক কোনো আলোচনা তখনো তিনি পাননি।

.

কোরআনের ধারাবাহিক আলোচনা প্রথম তিনি শুনেন তাঁর মহল্লার একটি মসজিদে, রমজান মাস উপলক্ষে সে মসজিদে পাকিস্তান থেকে একজন আলেম আসেন।

.

তাঁর নাম ছিল ইমাম ডক্টর আব্দুস সামি, তিনি প্রতিদিন এক পারা করে কোরআনের অনুবাদ এবং সংক্ষিপ্ত তাফসির করতেন।

.

সকালে দুই ঘণ্টা, বিকালে চার ঘণ্টা এবং তারাবির পর রাত ১০টা পর্যন্ত কোরআনের ধারাবাহিক আলোচনা হত।

.

নোমান আলী খান ডক্টর আব্দুস সামির সকল আলোচনায় অংশ নেন, এভাবে তিনি সম্পূর্ণ কোরআনের তাফসীর শুনে শেষ করেন।

.

কোরআনের এই ধারাবাহিক আলোচনা শুনে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, তিনি এবারই প্রথম কোরআন শুনেছেন।

.

এতে কোরআনের প্রতি তাঁর ভীষণ আগ্রহ জন্মে,তিনি তাঁর উস্তাদ ডক্টর আব্দুস সামিকে বলেন – ‘আপনি যেভাবে তাফসীর করেছেন, আমিও সেভাবে তাফসীর করতে চাই’।

.

ডক্টর আব্দুস সামি তাঁকে বললেন – ‘তাহলে আগে আরবি শেখো’।

.

নোমান আলী খান তাঁকে বললেন – ‘আমি থাকি নিউইয়র্কে, সারাদিন কাজ থাকে, কলেজে যেতে হয়, আমি কিভাবে সৌদি আরব গিয়ে আরবি শিখব?’

.

ডক্টর আব্দুস সামি তাঁকে বললেন – ‘তুমি আগামী সপ্তাহ থেকে এ মসজিদে আমার আরবি ক্লাসে আসতে পার’।

.

পরের সপ্তাহে নোমান আলী খান ডক্টর আব্দুস সামির নিকট আরবি ব্যাকরণ পড়তে যান। ডক্টর আব্দুস সামি তাঁকে ব্যাকরণের কিছু নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দেন।

.

এরপর থেকে তিনি কিছু কিছু আরবি বুঝতে শুরু করেন এবং নিজেই কোরআনের স্বাদ পেতে থাকেন।

.

তারপর ইন্টারনেটে খুঁজতে খুঁজতে একদিন পেয়ে গেলেন ড. তারিক আল-সোয়াইদানের কোরআনের মুজিযা বিষয়ক একটি সিরিজ আলোচনা, এটি ছিল আরবিতে।

.

তিনি রাতদিন এগুলো শুনতে থাকলেন, কিন্তু তেমন কিছুই বুঝতেন না। পরে সম্পূর্ণ লেকচারটা লিখে ফেললেন।

.

অভিধান থেকে প্রত্যেকটি শব্দের অর্থ বের করলেন, এভাবে আস্তে আস্তে তিনি আরবি লেকচার বুঝতে শুরু করলেন।

.

এর কিছুদিন পর তিনি ইন্টারনেটে পেলেন শাইখ মুতাওল্লীকে।

.

তাঁর লেকচারগুলো নোমান আলী খানকে আরো বেশি অনেক অনুপ্রাণিত করে।

.

এরপর পেলেন কোরআনের উপর লেখা ডা. ফাদেল আল সামারাইয়ের বিভিন্ন বই ও বক্তৃতা,এগুলো পেয়ে তাঁর কাছে মনে হলো তিনি জ্ঞানের সাগর পেয়ে গেছেন।

.

তিনি এসব পড়তে ও শুনতে শুরু করলেন। একের পর এক স্কলারকে আবিষ্কার করলেন, আর তাঁদের থেকে জ্ঞান আহরণ করতে থাকলেন।

.

দিনের পর দিন পরিশ্রম করলেন। নিজেকে নিজে বারবার বাধ্য করলেন – যেভাবেই হোক আরবি শিখতে হবে, আরবি বুঝতে হবে।

.

মানুষ যা চায়, তা পায়। আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা পূরণ করেছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নোমান আলী খান আরবি ভাষা ও কোরআনের ওপর অসাধারণ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

.

তিনি ২০টির অধিক তাফসীর গ্রন্থ পড়েন যার জন্য, কোরআন নাযিলের ইতিহাস, শব্দচয়নের কারণ, ভাষার অলঙ্কার, অর্থের গভীরতা, যুক্তির প্রখরতা এবং ব্যাকরণগত শুদ্ধতার বিষয়গুলো তাঁর আলোচনায় ফুটে উঠে।

.

তাই অনেক ইসলামী স্কলার নোমান আলী খানকে আল কোরআনের ভাষাবিজ্ঞানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

.

নাসাঊ ইউনিভার্সিটি কলেজে আরবির অধ্যাপক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন।

.

আমার দৃষ্টিতে বিশ্বের ৫জন প্রভাবশালী ইসলামী স্কলারের মাঝে তাঁর স্থান অন্যতম।

.

মানুষকে কোরআন শিক্ষা দিয়েই তিনি বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিতে চান।

.

কোরআনের চমৎকার শৈল্পিক সৌন্দর্য উপস্থাপনার জন্যে তিনি বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বের মুসলিম তরুণদের কাছে এক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।

.

সারা বিশ্বের মুসলিম তরুণরা আজ তাঁকে নিজেদের মডেল হিসাবে কল্পনা করেন, তাঁর মতো হতে চান।

.

তাঁর বক্তব্যে কোরআনের অন্তর্গত সৌন্দর্য ও মুজিযা মানুষের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে ওঠে।

.

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা-সেমিনার ও অনলাইনে তাঁর বক্তব্য শুনে অসংখ্য মানুষ ইসলামের দিকে ফিরে আসছে এবং ইসলাম গ্রহণ করছে।

.

কুরআন শিক্ষার প্রতি তার এ আগ্রহ থেকে সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ যুবক কুরআনের দিকে ফিরে আসছে।

.

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার প্রিয় উস্তাদকে নেক হায়াৎ দান করুন!

.

আমীন!

বিষয়: বিবিধ

৮১৩ বার পঠিত, ১ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

386688
১১ আগস্ট ২০১৯ সকাল ০৫:৫১
শেখের পোলা লিখেছেন : জাজাকাল্লাহু ওয়া লাকা।

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File