শাহবাগে অবস্থানকারী ঃ বিবেকহীন প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি সাম্প্রতিকতম সময়ে

লিখেছেন লিখেছেন উট পাখির কাব্য ০২ নভেম্বর, ২০১৩, ০৫:০৮:৪১ বিকাল

শাহবাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত বিষয় হয় গেছে। জামায়াতের সহঃ সেক্রটারি কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে একদল তরুন ব্লগার শাহবাগে অবস্থান শুরু করে। সেই ব্লগারদের অধিকাংশই বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা আদালতের দেয়া যাবজ্জীবনের সাজার পরিবর্তন দাবি করে। সরকার ও মিডিয়ার চতুর তৎপরতায় লোক সমাগম বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে দাবির সংখ্যা । বাড়তে থাকে বিরানীর প্যাকেট। অবশ্য কিছুদিনের মধ্যেই এই মুখোশ খুলে যায়। এই বিষয়ে যাব না, এটা আমার আলোচ্য বিষয় নয়। শাহবাগে অবস্থানকারী বা চলমান যুদ্ধাপরাধের বিচারে সমর্থন প্রদানকারী কি আসলে বিবেকবান ??? আসুন একটু বিশ্লেষণ করি ।

যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর লক্ষে্য যে আইন সেটি কি ? সেটি কি বাংলাদেশি নাকি আন্তর্জাতিক ?? উত্তর খুঁজুন, পেয়ে যাবেন। আইনটি নামে আন্তর্জাতিক, কাজে বাংলাদেশি তাও আবার ১৯৭৩ সালের পরিবর্তিত রূপ।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আদালতের নামের সাথে আন্তর্জাতিক রয়েছে, কিন্তু এখানে কয়জন বিচারক বা আইনজীবী আন্তর্জাতিক রয়েছে ?? বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ নিষেধ কেন ??? কারণ এতে নাটক মঞ্চস্থ করা যাবে না।

কোন আদালতে কি আছে, তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদানের সময় আদালতে উপস্থিত থাকে ??? যদি থাকে সেই আদালতে কি ন্যায় বিচার সম্ভব ?? এটিই আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালে ঘটেছে ।

বিশ্বের কোন আদালতে কি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহন হয় ?? হলে, সেই বিচারের নাম কি ?? আমাদের দেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাই ঘটেছে।

এসব ছিল অনেকটা অগোচরে, পত্রিকায় আসলেও তেমন আমলে নেয়নি কেউ। এরপরেও সমর্থন দিয়ে গেছে তরুন প্রজন্ম । কিন্তু সেসব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে স্কাইপে ঝড়ে। স্কাইপে কেলেংকারীতে দেশের মানুষ তথা গোটা বিশ্ব জেনেছে, বিচারের নামে বাংলাদেশে কি হচ্ছে । স্কাইপে কেলেংকারী থেকেই আমরা জানতে পেরেছি বিচারকরা কতটুকু বিচার করছেন , তাদের ক্ষমতা কতটুকু, নির্দেশ কোথা থেকে আসছে । এখানে সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টি ছিল, বিচারক নিজের বুদ্ধি, জ্ঞান দিয়ে কোন কিছুই করতেন না বা করতে পারতেন না। বেলজিয়াম থেকে আহমেদ জিয়াউদ্দিন যা বলতেন, যা পাঠাতেন তাই বিচারক শুধু পরের কার্যদিবসে পড়ে শোনাতেন । কোন সাক্ষী কি বলবে, তার সাক্ষ্য কতটুকু নেয়া যাবে, কাকে সাক্ষী থেকে বাদ দিতে হবে, কিসের উপর চার্জ হবে, আসামী পক্ষের উকিলকে কতটুকু সময় দিবে, কখন রায় দিতে হবে, এমনকি দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়টি পর্যন্ত লিখে পাঠিয়েছেন। স্কাইপে কেলেংকারীর মধ্যে একটি সংলাপ ছিল এরকম, “ আমি দাঁড়ায় যামু, আপনি আমারে বসাই দিবেন। লোকে দেখুক আপনার সঙ্গে আমার কোন খাতির নাই “ । কত বড় প্রহসন !!!!

এসব জানার পর কি এই বিচারের পক্ষে কারও বিবেক সমর্থন দিতে পারে ?? কোন সুস্থ বিবেক এটাকে সমর্থন দিতে পারে না । এরপরেও যদি শাহবাগে এই বিচারের পক্ষে কোন অবস্থান হয় তা হবে বিবেকহীন তরুণদের প্রতিচ্ছবি। আর যাই হোক এদের বাংলার মাটিতে কোন জায়গা হওয়া উচিত না। বিবেকবান তরুণরা এদের প্রতিহত করবে, এটাই আমার বিশ্বাস। কারণ তরুন প্রজন্ম বিচার চায় , নাটক নয়। যে অপরাধী সে সাজা পাবে, যে নিরপরাধ সে মুক্তি পাবে

বিষয়: রাজনীতি

৭৮১ বার পঠিত, ০ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File