ধিক প্রথম আলো, ধিক বাংলাদেশ, এবং ধিক একাত্তর। থুথু।

লিখেছেন লিখেছেন আবদুহু ২৭ অক্টোবর, ২০১৩, ০৭:০৭:২৩ সকাল



প্রথম আলো তাদের ফেসবুক পেজে ভয়াবহ এক সেমি অটোমেটিক রাইফেল হাতে ততোধিক ভয়াবহ, দেখতে অনেকটা ভারতীয়দের মতো, এক ভদ্রলোকের ছবি দিয়েছে। দিয়ে তারা ভয়াবহতম আতংক প্রকাশ করেছে। "রাজশাহীর কাজলায় শিবিরের সশস্ত্র মিছিল"। আমি চমকে উঠেছিলাম অস্ত্রটা দেখে। কারণ এইটা এমন এক উইপন যা দিয়ে একজন বা দুজনকে হত্যা করা হয় না, মাস কিলিং করা হয়। এইটা যুদ্ধের অস্ত্র। সুতরাং প্রথম আলো ও কাতর ও আকুল হয়ে পড়েছে। তারা জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখেছে "এরা এই অস্ত্র কোথায় পেল? ওদের কাছে এমন কত অস্ত্র আছে?"

প্রথম আলোর এ বাক্যগুলো পড়ে বাংলাদেশীদের মানসপটে ভেসে উঠে হলিউডি মুভির দৃশ্যপট। ক্লিক ক্লিক করে একসারি উজ্জল বাতি জ্বলে উঠলো। বিশাল গোডাউন। একপাশে কয়েক হাজার এসএমজি আর অন্যদিকে কয়েক লক্ষ কোল্ট৪৫ হাতে শিবিরের পোলাপান কেহেরমানের দৈত্যের মতো হাহাহাহাহা অট্টহাসি হাসছে। দূরে কিছু রকেট লাঞ্চার আর বাজুকা হতে ভয়ালদর্শন দাড়িওয়ালা হুজুর দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আজ বিপন্ন। ছবি: শহীদুল ইসলাম।



এইদিকে যখন একাত্তরের অর্জন বিপন্ন হয়ে পড়েছে, জাতির পিতার উত্তরসূরী আর মুক্তিযুদ্ধের কান্ডারীর দল কি চুপ করে থাকতে পারে? শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও মালকোঁচা মেরে নেমে পড়েসে। ফেসবুক পেজ থাকতে মুখে কি? ভয়াবহ অস্ত্র হাতে শিবিরের পোলার ছবি!! দাও ছড়িয়ে দাও। প্রথম আলো আর পুতুল মিলে হাজার হাজার লাইক। কয়েক হাজার শেয়ার। সারা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চ্যাতনা ছড়িয়ে গেলো নিমেষে।

------------------------------

পরে যখন বাঁশেরকেল্লার আপলোড করা ভিডিও দেখলাম, তখন আবারও চমকে উঠতে হলো । শুধু একজন না, একদঙ্গল র‍্যাব ও সিভিলিয়ান অস্ত্রধারী এইসব ভয়াবহ অস্ত্র হাতে রাজশাহীতে নিরস্ত্র বিরোধী দলীয় কর্মীদের উপর গুলি চালাচ্ছে। মাথা, বুক ও কোমরের লেভেলে এরা এইসব যুদ্ধের অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে কোন টার্গেট ছাড়াই গুলী স্প্রে করছে। এসব রাইফেলের রেঞ্জ অনেকসময় সাত আটশ মিটার পর্যন্ত হয়। এই দেশের নাম বাংলাদেশ? যেখানে কুকুরের মতো সরকারী বাহিনীর হাতে বিচার ছাড়া হত্যার সম্মুখীন হতে হয়?















ব্যাক্তিগতভাবে আমার কিছু বলার নেই। মানুষের যখন নৈতিকতা বোধ থাকেনা, তখন মানুষ পশুর চেয়েও খারাপ কাজ করতে পারে। প্রথম আলো, শাহবাগি, ফ্রগতিশীল, আওয়ামী লীগ আর একাত্তর ব্যাবসায়ীর দলের কাছে মিথ্যা কথা বলা কোন অপরাধ না। তাদের আদর্শটাই এমন যে স্বার্থসিদ্ধির জন্য যে কোন কাজ করা বৈধ। মিথ্যা বলা তো ছেলেখেলা।

বরং এরা এতোটাই জানোয়ার যে, এদের যদি আমি বলি 'তোমরা মিথ্যা বলছো', তারা ফেফে নির্লজ্জের মতো হেসে বলবে, তাতে কি? সুতরাং এই পশুদের কিছু বলে লাভ নেই। কিন্তু হতাশা ও দু:খ অনূভব করি এদেশের নিরীহ মানুষদের জন্য, সরল বাংলাদেশীদের জন্য। এইদেশে প্রথম আলো সবচেয়ে বেশি প্রচারিত পত্রিকা। এবং কোটি কোটি মানুষ চোখ বন্ধ করে এইসব সাংবাদিক বুদ্ধিজীবি জানোয়ারদের বিশ্বাস করে, যাদের প্রধান অস্ত্র হলো মিথ্যাচার।

এই অমানবিক নীতিহীনতা একদিনে হঠাৎ করে হয়নি। আবারও মনে হলো, এই দেশের গোড়াতেই গলদ রয়ে গেছে। দিনে দিনে একাত্তর নিয়ে অলৌকিক একটা ডিসকোর্স বানিয়ে তোলা হয়েছে। এই প্রথম আলোর মিথ্যাবাদীর দলই শিশু কিশোরদেরকে 'চলো একাত্তরের গল্প শুনি' বলে হাতছানি দেয়। এ শাহবাগির দল, মুনতাসির মামুন জাফর ইকবাল মার্কা মিথ্যাবাদিদের হাতে এইদেশের ইতিহাস গড়ে উঠে। কাঠাল গাছ থেকে যেমন লিচু আশা করা যদি বোকামী হয়, একাত্তরের অলীক কাহিনীকে মেনে নিয়ে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার পিছনে হেঁটে চলা এই বাংলাদেশ থেকে সত্য ও ন্যায় কিভাবে আশা করবো? সরি। আমারই ভুল হয়েছে।

একাত্তরের একটা ছবি দেখে বাংলাদেশী অসাম্প্রদায়িকের দল প্রায়শ জল ঝরায়। পাক বাহিনী এক বাঙ্গালীর লুঙ্গি খুলে পরীক্ষা করছে, সে মুসলিম না হিন্দু। হিন্দু হলে তাকে মেরে ফেলবে। অথচ ঐ ছবি যিনি তুলেছিলেন, সেই কিশোর পারেখের নিজের বইতে লেখা আছে "ভারতীয় বাহিনী চেক করে দেখছে, পাক বাহিনীর গুপ্তচর কোন বাঙ্গালী অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে কি না"। পাশের ছবিতেও ভারতীয় বাহিনী বাঙ্গালীদের লাথি মারছে। আর আমরা এসব ছবিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভেবে আপ্লুত হয়ে ইমরান জারজ সরকারদের আহবানে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি।



আজ হতে ত্রিশ বছর পরে কোন আবেগপ্রবণ বাঙ্গালী যুবক হয়তো প্রথম আলোর এ ছবি দেখে ইতিহাসের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে কয়েকজন হুজুর মেরে 'জাতীয় লজ্জা'র প্রতিশোধ নেবে। নতুন কোন চটিলেখক ইতিহাস গবেষণা করে প্রমাণ করে দেবে, শেখ হাসিনার সরকার দেশের বিপন্ন স্বাধীনতাকে বাঁচাতে ভয়াবহ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। এভাবেই ছবি ও দলিল দিয়ে একাত্তরের চেতনার বিনির্মাণ হয়। এভাবেই ইতিহাস গড়ে উঠে।

"আলো হীন এক অরণ্যের গান/ পৌছে না যেথা সত্যের আহবান/

মানুষ নামের যেথা নেই পরিচয়/ মনুষ্যত্বের সেথা অবিরত ক্ষয়/

বিবেকের কাঠগড়া যেথা ম্রিয়মান/ মানুষের মুল্য কি পাখির সমান?"

বিষয়: বিবিধ

৩৮৯৭ বার পঠিত, ০ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File