ছাত্রলীগনামা

লিখেছেন লিখেছেন স্বপ্নলোকের সিঁড়ি ০৫ অক্টোবর, ২০১৬, ০৫:০৩:৫৬ সকাল



শিক্ষ্য শান্তি প্রগতির নামে (মোরা) মুজিবের সৈনিক

কাঁপিয়ে তুলবো সারা চরাচর (মোরা) কাপাবো দিগবিদিক

ছাত্রলীগ জয় জয় ছাত্রলীগ ৷

সারা স্বদেশের অ্যান্দালনের মৃত্যুঞ্জয়ী নাম

স্বদেশ গড়ার শপথে দীপ্ত আমাদের 'সংগ্রাম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একদিকে যেমন এই ভূখন্ডের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন, অন্যদিকে আদর্শিক চেতনায় উদ্ধুদ্ধ, ছাত্র ও শিক্ষাবান্ধব কর্মসূচি বান্তবায়নে অপ্রতিদ্বন্দী ৷ ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের দাবিতে জন্ম হয়েছিল আমাদের প্রিয় এই সংগঠনের ৷ তারপর সময়ের প্রয়োজন মেটাতেই এগিয়ে চলা ছাত্রলীগের ৷ বায়ান্ন, বাষট্রি, ছেষট্রি, ঊনসত্তরের পথ বেয়ে মুখোমুখি জাতির পৌরবময় একাত্তরের ৷

উপরের কথাগুলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র হতে নেয়া।স্বাধীনতার পরে আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি বলতে যা বুঝায় ছাত্রলীগ তার ধারে কাছে নাই।রীতিমত ফ্রাঙ্কেনস্টাইন এ পরিণত হয়েছে ছাত্রলীগ।পত্রিকা আর সোশাল মিডিয়ায় ছাত্রলীগের দলীয় কর্মযজ্ঞের যে বয়ান আসে সেগুলোর সাথে দলীয় সংগীত আর গঠনততন্ত্রের ভূমিকার আপ্তবাক্যগুলোর বৈসাদৃশ্য ছাড়া সাদৃশ্য খুজতে চাওয়া যেন এরকম কাজের মতো- ......সাদৃশ্য খোঁজতে চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।

শাবি ছাত্রলীগের সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী বদরুলকে তারই একসময়ের ছাত্রী খাদিজা তথাকথিত প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ছাত্রলীগ নেতা হৃদয়ের গভীর মনোবেদনা থেকে যে কান্ডের অবতারণা করেছেন তা এখন আলোচনার শীর্ষে রসিক বাঙ্গালী সমাজে।



বদরুল হয়ত " কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে- কভূ দংশেনি যারে" এমন অবস্থায় ছিলেন।যার কারণে রাগে-ক্ষোভে চরম ব্যথিত হৃদয়ে অমর প্রেমকাহীনি রচনার ব্যর্থতাই তাকে একাজে প্ররোচিত করে থাকতে পারে।

বদরুল হয়ত তার অগ্রজ মানিকের কথা জানতেন- যিনি ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন জাহাজ্ঞীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে তিনি নিরাপদে বিদেশ-বিভূইয়ে চলে গেছেন।

আসলে ছাত্রলীগনামা লেখা জটিল এক উপাখ্যান রচনার মত।প্রতিদিন আরো কত মানিক আর বদরুল অন্তরালে থেকে যাচ্ছে আর ইবলিস-প্রেতাত্বা অট্রহাসি দিচ্ছে.......

ছাত্রলীগনামাঃ

স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্রহত্যার সূচনা হয় ছাত্রলীগের মাধ্যমে।১৯৭৪ সালের ৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হলে সংঘটিত হয় সাত জন ছাত্র হত্যার মতো নারকীয় ঘটনা। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরিণ কোন্দলে ঐদিন মুহদিন হলের টিভিরুম রক্তাক্ত হয়েছিল।ব্রাশফায়ার আর বোমায় ঝাঁঝরা হয়েছিল সাতটি মুখ।এর পর থেকে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার রাজনীতি চলতে থাকে অবাধ গতিতে। ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্ক টাইমস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বিশ্বের সর্বাধিক সংঘাতপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন’ বলে চিহ্নিত করে।

১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে এক নির্মম ঘটনা।শিবিরের নবাগত সংবর্ধনায় ছাত্রমৈত্রি,ছাত্রইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় নিহত হন শিবিরের সাব্বির,হামিদ,আইয়ূব,জব্বার।ঐদিন লোহার রড,পাইপগান,দা-কিরিচ দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় সাব্বিরকে।ইটের উপর মাথা রেখে আরেকট ইটের আঘাতে মাথা থেকে মগজ বের করে দেয়া হয় আব্দুল হামিদের-যা ঐ সময়ের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি ব্রাম্মনবাড়িয়ার ইউনুসিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মাসুদুর রহমানকে ছাত্রলীগ গুলি করে হত্যা করে বলে পত্রিকান্তরে প্রকাশিত।

২৮ অক্টোবর ২০০৬ সালের পল্টন হত্যাকান্ড ইতিহাসে ছাত্রলীগের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে লিখা থাকবে। লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে মুজাহিদ, শিপন আর জসিমদের রক্তাক্ত দেহ ছাত্রলীগের ড্রাকুলা চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়।



বাংলাদেশি মিডিয়াসহ বিশ্বমিডিয়ায় এ দিনের চিত্র -



বিশ্বজৎ -ছাত্রলীগের নির্মম কোপাকুপির শিকার



ছাত্রলীগের সন্ত্রাস নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগকে নিয়ে আর কোনো নেতিবাচক সংবাদ দেখতে চাই না।’ ওইদিন রাতেই শাহবাগে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় দুই সাংবাদিক আহত হন। ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী অপর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টকারী যেই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। ১৫ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের নামে সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না।’ এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের অবাধ্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শাস্তির সুপারিশ করেছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগ যা করছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।’ একই সময়ে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন ‘ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের মাথা হেট হয়ে যায়।’

অর্থমন্ত্রী বলতে বাধ্য হয়েছিলেন- বদমাসরা ছাত্রলীগ করে।



বিষয়: বিবিধ

৯৮৫ বার পঠিত, ০ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File