@@@ চোর @@@

লিখেছেন লিখেছেন প্যারিস থেকে আমি ০৩ নভেম্বর, ২০১৯, ০৬:৩০:৫৯ সন্ধ্যা

প্রায়ই এটা সেটা পাওয়া যায়না। মাত্র সাবানটা কিনে এনে বাথরুমে রাখছেন, আধাঘন্টা পর গোসল করতে গিয়ে দেখবেন সাবান উধাও। কে নিয়েছে, কে নিয়েছে বলে সারাদিন চিল্লা চিতকার করলেও কেউ স্বীকার করবে না যে সে নিয়েছে বা এই যায়গায় রেখেছে। অনেকদিন ফেয়ার এন্ড লাভলি ক্রিম মুখে লাগায়নি বলে মুখে ফোসকা উঠার উপক্রম। অনেক শখ করে মাঝারি সাইজের একটা ক্রিম কিনে এনে টেবিলে রেখেছে। ক্রিমের মুখটা খোলার আগেই সেটা গায়েব। পুরো এক লিটার সয়াবিন তেল এনে কিচেনে রেখেছেন, পরদিন দেখবেন তেলের বোতলের অর্ধেক নাই। কি, আমরা একরাতেই অর্ধেক তেল খেয়ে ফেলেছি? কেউ কোনো জবাব দেবে না। নয়শো নিরাব্বই টাকা দিয়ে একদরের দোকান থেকে একটা শার্ট কিনে সাকুল্যে তিন দিন পরে হেংকারে তুলে রেখেছে। বাইরে থেকে ঘুরে এসে দেখে হেংকার ঠিক যায়গামত আছে, শুধু শার্ট নাই। কে নিয়েছে সেটাও জানতে পারছেনা বাসায় কেউ নেই বলে। রাগে, দুঃখে বম হয়ে আছে সুন্নাহ।

সুন্নাহ, মাহদি, কায়েস আর ডিউক চারজন মিলে থাকে একটি ম্যাচে। চারজনের বাড়ি চার এলাকায়। কেউ কারো বাড়িঘর চিনেনা। চারজনে মিলে ম্যাচের ভাড়া, খাবার খরচ এবং রান্না নান্নার জন্য রাখা ছেলেটার বেতন ভাগ করে দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নাই। সমস্যা শুধু একটা, সেটা চুরি। ম্যাচের জুমলা জিনিসপত্রের পাশাপাশি ব্যাক্তিগত জিনিসপত্রও চুরি হয়। জুমলা জিনিষ চুরি হলে কারো কোনো মাথা ব্যথা নাই। সবার উপর দিয়ে চলে গেলো বলে কেউ আর মাথায় একা একা ব্যথা নিতে চায় না। কিন্তু ব্যাক্তিগত কিছু চুরি হলেই ইশফিশ, ইশফিশ, কুকানি শুরু হয়। কথা বলতে বলতে বাসা মাথায় তুলে। অবশেষে চারজনে মিলে কাজের ছেলের উপর সুনামি চালিয়ে তাকে তালাক দেয়।

এই পর্যন্ত চারজন কাজের ছেলে সালাম না দিয়ে বিদায় নিয়েছে। কিন্তু চুরি বন্দ হচ্ছিল না। আর হাতেনাতে চোরকেও ধরা যাচ্ছিল না। নিজেদের মধ্যেও কাউকে সন্দেহ করা যাচ্ছে না। সন্দেহ করার মত কোনো লক্ষণের দেখাও মিলছিল না। নতুন কাজের ছেলেকে চুরির বিষয়ে খুব শাসিয়ে দেয়া হয়েছে। শাসিয়ে দেয়াতে কাজ দিয়েছে মনে হচ্ছে। ক'দিন থেকে চুরি হচ্ছে না। সুন্নাহরা খুব খুশি। অবশেষে চোরের হাত থেকে রেহাই পাওয়া গেল।

একদিন ঘটা করে ডিউক সবাইকে তার বাড়িতে দাওয়াত দিল। ডিউকের দাওয়াতে বাকিরা দাওয়াত গ্রহণ করে ডিউকের বাড়িতে যাওয়ার দিন তারিখ সব ঠিক করে নিল। নির্ধারিত তারিখে চার ম্যাচমেট সকাল আটটায় ডিউকের বাড়ির উদ্দেশ্যে বিরতিহীন বাসে করে যাত্রা শুরু করলো। তিন ঘন্টার জার্নি করে তারা ডিউকের গ্রামে গিয়ে পৌছলো। বাস যেখানে নামিয়ে দিয়েছে সেখান থেকে আরো পনেরো মিনিট সময় হাটতে হবে ডিউকের বাড়তে পৌছতে। এই পথটুকু এগিয়ে নিতে এসেছে ডিউকের ভাই। ডিউকের ভাইকে দেখে সকলের চোখ কপালে। সুন্নাহর চুরি হওয়া শার্টটাই যে ডিউকের ভাই পরে আসছে গায়ে।

বিষয়: বিবিধ

৭১ বার পঠিত, ০ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File